বিদ্রোহে উস্কানি দেয়ার অভিযোগ এনে গত মার্চে ফেববুক এবং টুইটারে নিষিদ্ধ হয়েছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তখন তার মুখ্যপাত্র জেসন মিলার ফক্স নিউজকে দেয়া এক সাক্ষাতকারে বলেছিলেন, আগামী দুই-তিন মাসের মধ্যে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে ফিরবেন নিজস্ব প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে। প্রাথমিকভাবে আমরা মনে করেছি ওইটি হবে সমাজিক যোগাযোগের সবচেয়ে ‘হটেস্ট টিকেট’ (আকর্ষনীয় মাধ্যম)। এটি সামাজিক মাধ্যমকে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করতে সাহায্য করবে এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সব বিষয়ে জানার সুযোগ তৈরী করে দিবে। এটি হবে তার নিজস্ব প্ল্যাটফর্ম। আমি এরচেয়ে বেশি কিছু বলতে পারছি না, তবে এটি বলতে পারি যে তিনি একবার শুরু করলে এটি অনেক বড় হবে।

এরপর গত মে মাসে তিনি যে প্ল্যাটফর্ম চালু করেছিলেন তার নাম ছিল ‘ফ্রম দ্য ডেস্ক অব ডোনাল্ড জে ট্রাম্প’। কিন্তু একমাসের মধ্যেই সেটা স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেয়া হলো।

২ জুন পেজটি অনলাইনে বন্ধ হওয়ার পর জেসন মিলার এক টুইটবার্তায় বলেছেন, প্ল্যাটফর্ম বন্ধের বিষয়টি যোগাযোগের সামাজিক মাধ্যমে ট্রাম্পের ফিরে আসার ক্ষেত্রে একটি পূর্ব পদক্ষেপ। তবে ট্রাম্প ঠিক কীভাবে ও কবে যোগাযোগের সামাজিক মাধ্যমে ফিরে আসবেন, তা স্পষ্ট করেননি মিলার।

মতপ্রকাশের ক্ষেত্রে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো বাধা প্রদান করছে বলে আগে থেকেই ট্রাম্প সমালোচনা করে আসছিলেন। একপর্যায়ে তার পক্ষ থেকে মিলার জানিয়েছিলেন, সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে আমূল পরিবর্তনের একটি মাধ্যম খুলবেন ট্রাম্প।

সামাজিক যোগাযোগের প্রধান প্রধান মাধ্যমে নিষিদ্ধ হওয়ার পর অনেকটা হাঁপিয়ে ওঠেন ট্রাম্প। ক্ষমতা থেকে যাওয়ার পর তিনি ই-মেইলের মাধ্যমে তার অনুসারীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে আসছিলেন। এ ছাড়া সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে নিজের বক্তব্য প্রকাশ করে আসছেন তিনি।

গত ৪ মে ট্রাম্প যোগাযোগের নিজস্ব প্ল্যাটফর্ম চালু করেন। এই প্ল্যাটফর্মে তিনি তার বক্তব্য পোস্ট দিতে থাকেন। প্ল্যাটফর্মের নিয়ম অনুযায়ী, অন্যরা তার পোস্টগুলো শেয়ার করতে পারছিলেন। তবে পেজটিতে তার ভক্ত-অনুসারীদের কোনো মতামত প্রকাশের সুযোগ ছিল না।

ক্ষমতা থেকে চলে যাওয়ার পর সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্টরা সরাসরি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড এড়িয়ে চলেন। ট্রাম্প তার ব্যতিক্রম। তিনি তার রাজনৈতিক কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছেন। ২০২৪ সালের নির্বাচনে তিনি আবার প্রার্থী হবেন, এমন আভাস দিয়ে রেখেছেন। এ ছাড়া রিপাবলিকান পার্টির রক্ষণশীল লোকজনকে তিনি প্রকাশ্যে সমর্থন করছেন। বিরোধীদের সমালোচনা করছেন। ২০২২ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসে নিজের অনুগত রক্ষণশীলদের জয়ী করতে ইতিমধ্যে ট্রাম্প কাজে নেমে পড়েছেন।

সূত্র : ভ্যানিটি ফায়ার ডট কম