জাপানের দক্ষিণাঞ্চলীয় ওকিনাওয়া প্রিফেকচারের গভর্নর গেন্তা কোজা সোমবার মার্কিন সামরিক বাহিনীর তীব্র সমালোচনা করেছেন। স্থানীয় এক নারীকে হত্যার সন্দেহে মার্কিন এক মেরিন সেনাকে গ্রেপ্তারের পর তিনি এ সমালোচনা করেন। এর এক দিন আগে ওই হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে স্থানীয় বাসিন্দারা বিক্ষোভও করেছিলেন।
তুরস্কের বার্তা সংস্থা আনদোলু সোমবার (৫ অক্টোবর) জানায়, কোজা বলেছেন, 'আবারো এমন ভয়াবহ অপরাধ ঘটার পর আমরা বলতে বাধ্য হচ্ছি যে, শৃঙ্খলা ও মানবাধিকার বিষয়ে মার্কিন সামরিক বাহিনীর নেয়া উদ্যোগ পুরোই ব্যর্থ।'
২০ বছর বয়সী ল্যান্স করপোরাল ডেভিন জ্যাকব ব্যালার্ড ফুতেনমা মেরিন কোর বিমান ঘাঁটিতে দায়িত্বে ছিলেন। মার্কিন সামরিক বাহিনীর সংবাদপত্র স্টারস অ্যান্ড স্ট্রাইপস জানিয়েছে, শনিবার ভোরে নাহা শহরের ওয়াকাসা এলাকার একটি হোটেলে ৩৯ বছর বয়সী আনা ইয়াগিকে হত্যার সন্দেহে ব্যালার্ডকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, ব্যালার্ড ইয়াগির ঘাড়ে চাপ দেয়ার পর শ্বাসরোধে তার মৃত্যু হয় বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ব্যালার্ড অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। সোমবার মামলাটি প্রসিকিউটরদের কাছে পাঠানো হয়েছে।
রোববার সন্ধ্যায় ওকিনাওয়া সিটিতে জরুরি প্রতিবাদ সমাবেশ করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। সেখানে ইয়াগির স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। শৃঙ্খলা নিশ্চিত করার বিষয়ে মার্কিন সামরিক বাহিনীর বারবার দেয়া প্রতিশ্রুতি নিয়েও বিক্ষোভকারীরা সমালোচনা করেন।
কোজা তৃতীয় মেরিন এক্সপেডিশনারি ফোর্সের কমান্ডার লেফটেন্যান্ট জেনারেল বেঞ্জামিন ওয়াটসন এবং মার্কিন কনসাল জেনারেল অ্যান্ড্রু উয়ের সাথে বৈঠক করেন। তিনি আরো কঠোর শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা, এ ধরনের ঘটনা ঠেকাতে ব্যবস্থা নেয়া এবং জাপান-মার্কিন স্ট্যাটাস অব ফোর্সেস চুক্তি পর্যালোচনার দাবি জানান।
ওয়াটসন জাপানি তদন্তকারীদের সাথে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দেন।
জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি সোমবার বলেছেন, মেরিন সেনাকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় তার সরকার যুক্তরাষ্ট্রের কাছে 'জোরালো প্রতিবাদ' জানিয়েছে। তদন্তে সহযোগিতা এবং এ ধরনের ঘটনা যাতে আবার না ঘটে, সে জন্য ব্যবস্থা নেয়ারও দাবি জানানো হয়েছে বলে জিজি প্রেস জানিয়েছে।






