ভারতের হায়দরাবাদে ভোটার তালিকা সংশোধনকে কেন্দ্র করে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। নিউজ পোর্টাল ‘দ্য অবজারভার পোস্ট’র এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, স্থানীয় কয়েকজন মুসলিম বাসিন্দা অভিযোগ করেছেন- এক বিজেপি বুথ এজেন্ট তাদের ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেয়ার উদ্যোগ নিয়েছিলেন।
সোমবার (৫ অক্টোবর) ভারতীয় একটি সংবাদমাধ্যম জানায়, ওই অভিযোগকারীদের দাবি, ওই বুথ এজেন্টকে তারা ছোটবেলা থেকেই চেনেন এবং একই এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করছেন।
স্থানীয় মুসলিম ভোটারদের অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়ায় তাদের পরিচয় ও ঠিকানা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। তাদের আশঙ্কা- এই প্রক্রিয়ার আড়ালে নির্দিষ্ট একটি সম্প্রদায়ের ভোটারদের নাম বাদ দেয়ার চেষ্টা হতে পারে। কয়েকজন বাসিন্দা জানিয়েছেন, তারা দীর্ঘদিন ধরে সংশ্লিষ্ট এলাকায় বসবাস করছেন এবং নিয়মিত ভোট দিয়ে আসছেন।
অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেয়ার জন্য ব্যবহৃত ফর্ম ৭। নিয়ম অনুযায়ী, কোনো ভোটারের নাম নিয়ে আপত্তি থাকলে নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ায় তা জানানো যায়। তবে অভিযোগকারীদের প্রশ্ন- রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত হয়ে যদি এই প্রক্রিয়া ব্যবহার করা হয়, তাহলে তা ভোটাধিকার ও অবাধ নির্বাচনের ক্ষেত্রে গুরুতর সমস্যা তৈরি করতে পারে।
এক তথ্য অনুযায়ী, এসভি বালাচান্দার মুশিরাবাদ বিধানসভা কেন্দ্রের ২১০ নম্বর ভোটকেন্দ্রের ‘বুথ লেভেল এজেন্ট’ এবং তিনি বিজেপির একজন সদস্য। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ যে, তিনি ‘বুথ লেভেল অফিসার’র (বিএল ও) কাছে প্রায় ৩০টি ‘ফর্ম ৭ জমা দিয়েছেন। ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেয়ার আবেদনের জন্য ‘ফর্ম ৭’ ব্যবহার করা হয়; যেমন- কোনো ব্যক্তির মৃত্যু হলে, তিনি অন্য কোথাও চলে গেলে বা তার একাধিক ভোটার আইডি থাকলে। তবে এই এলাকায় তাদের কারোর ক্ষেত্রেই নাম বাদ দেয়ার মতো কোনো কারণ ছিল না।
এই তালিকায় মুহাম্মদ বাবা শরফুউদ্দিনের নামও রয়েছে, যিনি কংগ্রেসের একজন বিএলএ এবং দলের ভাগলিঙ্গামপল্লী বিভাগের সহ-সভাপতি। তিনি বালাচান্দারের বাড়ি থেকে মাত্র ১৫০ মিটার দূরে থাকেন এবং ২০ বছরেরও বেশি সময় ধরে তাকে চেনেন।
শরফুদ্দীন জানান, প্রায় এক সপ্তাহ আগে বিএলওর কাছ থেকে ফোন পেয়ে তিনি হতবাক হয়ে যান; তিনি জানতে পারেন যে, ওই ফর্মগুলোতে কেবল তার নিজের নামই নয়, বরং তার স্ত্রী, চার ভাই-বোন ও তাদের জীবনসঙ্গী এবং কয়েকজন সন্তানের নামও অন্তর্ভুক্ত ছিল। সব মিলিয়ে তার পরিবারের ২০ জনের নাম তালিকায় ছিল।
শরফুদ্দীন যখন বালাচান্দারের কাছে এ বিষয়ে কৈফিয়ত চান, তখন ওই বিজেপি বিএলএ উত্তর দেন, ফর্ম ৭ কী কাজে লাগে, তা আমি জানি না।
শরফুদ্দিন আরো জানান, বালাচান্দার তাকে বলেছিলেন যে, বিজেপি অফিস থেকেই তাকে ফর্মগুলো দেয়া হয়েছিল এবং সেগুলো জমা দেয়ার অনুরোধ করা হয়েছিল।
ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের দাবি উঠেছে। ভোটার তালিকা সংশোধনের ক্ষেত্রে ভারতীয় নির্বাচন কমিশনের স্বচ্ছতা, যাচাইযোগ্য প্রক্রিয়া এবং প্রতিটি নাগরিকের ভোটাধিকার সুরক্ষা নিয়ে তাই স্থানীয় মুসলিমদের মধ্যে সংশয় তৈরি হয়েছে।






