ওমরাহ ভিসায় বেশ কিছু কঠোরতা আনছে সৌদি আরব সরকার। বিশেষ করে নির্দিষ্ট সময়ে দেশে ফিরে আসা এবং মক্কা, মদিনা ও জেদ্দার বাইরে কোনো শহরের অবস্থান না করার বিষয়ে বিধিনিষেধ জারি করা হচ্ছে। এসব নিয়ম অমান্যে জেল-জরিমানার বিধান করছে দেশটি। পবিত্র ওমরাহ করার জন্য ভিসা নিয়ে যাতে অন্য কোনো কাজে নিযুক্ত না হতে পারে সেই লক্ষ্যে এসব নিয়ম করা হচ্ছে। সৌদি সরকারের পাসপোর্ট অধিদফতরের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা বলা হয়েছে।
প্রকাশিত ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ওমরাহ করতে আসা বিদেশী নাগরিকদের ভিসার মেয়াদের ব্যাপারে সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে। ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই কোনো বিলম্ব না করে চলে যেতে হবে; অন্যথায় মেয়াদ শেষ হওয়ার পর ধরা পড়লে দেশে ফেরত পাঠানোর আগে ছয় মাসের জেল ও ৫০ হাজার রিয়াল জরিমানার শাস্তির মুখে পড়তে হবে। নতুন এ নিষেধাজ্ঞার কারণে ওমরাহ পালনকারী বিদেশীরা মক্কা, মদিনা ও জেদ্দার নির্দিষ্ট এলাকার বাইরে যেতে পারবেন না। এ ছাড়া তাদের ভিসার নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই দেশে ফেরত আসতে হবে।
মন্ত্রিসভায় বড় রদবদল
সৌদি আরবের মন্ত্রিসভায় বড় রদবদল এনেছেন দেশটির বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ। শনিবারে জারি করা ফরমানে নিয়োগ দেয়া হয়েছে নতুন শ্রমমন্ত্রী। একই সঙ্গে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা ও পরিবেশ সংরক্ষণের জন্য নতুন মন্ত্রণালয় ও প্রতিষ্ঠান গঠন করার আদেশ দেয়া হয়েছে ওই রাজকীয় ফরমানে।
খবরে বলা হয়েছে, দেশটির বিশাল সংখ্যক তরুণ জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে এবং তাদের মধ্যে সাংস্কৃতিক উদ্দীপনা ছড়িয়ে দিতেই নেয়া হয়েছে এ নতুন উদ্যোগ। সৌদি বাদশাহর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বেশ কয়েকটি মন্ত্রণালয় পেয়েছে নতুন প্রতিমন্ত্রী। এ ছাড়া শূরা কাউন্সিলে নিয়োগ করা হয়েছে নতুন সহসভাপতি।
সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে যে, ব্যবসায়ী আহমদ বিন সুলেইমান আল রাজিকে শ্রম ও সামাজিক উন্নয়ন মন্ত্রীর দায়িত্ব দেয়ার কথা বলা হয়েছে ফরমানে। এর আগে ওই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন আলী বিন নাসের আল ঘাফিস। সৌদির যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান দেশটির অর্থনৈতিক নীতি প্রণয়নের বিষয়টি দেখভাল করেন। বিশালসংখ্যক তরুণের জন্য কর্মসংস্থান নিশ্চিত করাটা তার জন্য অনেক বড় চ্যালেঞ্জের বিষয়। সৌদি আরব মনে করে, বেসরকারি খাতের ব্যবসায়ীকে শ্রম মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দিলে তা বেকারত্ব লাঘবের বিষয়ে সহায়ক হবে। বর্তমানে সৌদি আরবে বেকারত্বের হার ১২.৮ শতাংশ। শ্রম মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বেকারত্বের হার ৯ শতাংশে নামিয়ে আনতে সৌদি আরব ২০২২ সালের মধ্যে ১২ লাখ নতুন চাকরি তৈরি করতে চায়।
শ্রম মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ ধর্ম মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন আবদুল্লাতিফ বিন আবদুল্লাজিজ বিন আবদুলরাহমান আল আল শেইখকে। তিনি শরিয়া পুলিশের প্রধান ছিলেন। অন্য দিকে শূরা কাউন্সিলের সহসভাপতি হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন আবদুল্লাহ আল মোতানি। নতুন ফরমানে তথ্য মন্ত্রণালয় ভেঙে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় স্থাপনেরও আদেশ দেয়া হয়েছে। ‘জেনারেল কালচার অথরিটি’ নামের সংস্থার প্রধান হিসেবে গত এপ্রিলে নিয়োগ দেয়া প্রিন্স বদর বিন বাদুল্লাহ বিন মোহাম্মেদ বিন ফারহান আল সৌদকেই। এর আগে দেশটির ঐতিহাসিক স্থানগুলোতে পর্যটনের ব্যবস্থা করার উদ্দেশ্যে গঠিত কমিশনের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। তা ছাড়াও যুবরাজ মুহাম্মদ বিন সালমানের পরিবারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত ‘সৌদি রিসার্চ অ্যান্ড মার্কেটিং গ্রুপেরও’ প্রধান ছিলেন তিনি।
কাতারের বিরুদ্ধে হুমকি
সৌদি আরবের বাদশাহ সালমান কাতারের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের হুমকি দিয়েছেন। কাতার যদি রাশিয়ার নির্মিত এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ক্রয় করে তাহলে কাতারের বিরুদ্ধে সামরিক ব্যবস্থাসহ প্রয়োজনীয় যে কোনো পদক্ষেপ নেয়ার কথা বলেছেন তিনি। শুক্রবার ফ্রান্সের দৈনিক পত্রিকা লা মন্ডে এ খবর জানিয়েছে।
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁকে লেখা এক চিঠিতে সৌদি বাদশাহ কাতারের এই অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ক্রয় নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। চিঠিতে সৌদি বাদশাহ কাতারের ওপর চাপ বৃদ্ধির আহ্বান জানিয়েছিলেন ম্যাক্রোঁর প্রতি। কাতার এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ক্রয় করলে তা সৌদি আরবের নিরাপত্তার জন্য হুমকি বলে দাবি করেন বাদশাহ সালমান।
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্টের কার্যালয় এলিসি প্রাসাদের সূত্রের বরাতে চিঠিটি হাতে পেয়েছে লা মন্ডে। এতে সৌদি বাদশাহ লিখেছেন, এমন পরিস্থিতিতে সৌদি আরব এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গুড়িয়ে দিতে যে কোনো পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত রয়েছে, সামরিক পদক্ষেপও রয়েছে এর মধ্যে।
২০১৮ সালের জানুয়ারিতে রাশিয়ায় নিযুক্ত কাতারের রাষ্ট্রদূত জানান, এই আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনার বিষয়টি চূড়ান্ত হওয়ার পর্যায়ে রয়েছে। এর আগে ২০১৭ সালের অক্টোবরে উভয় দেশ সামরিক ও কারিগরি সহযোগিতা বৃদ্ধির চুক্তি স্বাক্ষর করে। একই সময়ে সৌদি আরবও বাদশাহ সালমানের মস্কো সফরে একই ধরনের এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ক্রয়ের চুক্তি করেছিল রাশিয়ার সাথে।
আরো পড়ুন :
যুক্তরাষ্ট্রকে এরদোগান কৌশলগত অংশীদারের মতো আচরণ কাম্য
আরটি ডটকম
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোগান যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, তুরস্কের অস্ত্র চুক্তিতে আইনি বাধা প্রদান না করে বরং দেশটির উচিত আঙ্কারার সাথে আরো বেশি কৌশলগত অংশীদারের মতো আচরণ করা। আঙ্কারার কাছে ‘এফ-৩৫’ যুদ্ধবিমান বিক্রি বাতিলে মার্কিন পরিকল্পনার জবাবে তুর্কি প্রেসিডেন্ট এই মন্তব্য করলেন।
শুক্রবার তুরস্কের স্টার টিভিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এরদোগান বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রকে আমরা আমাদের কৌশলগত অংশীদার হিসেবে বলে থাকি। আমাদের কৌশলগত অংশীদার হিসেবে, যুক্তরাষ্ট্রের এটি বলা উচিত নয় যে আমরা যেন অন্য কোনো দরজায় কড়া নাড়ি।’
আঙ্কারার কাছে বিক্রির জন্য ‘এফ-৩৫’ স্টিলথ যুদ্ধবিমানের চালান স্থগিতের জন্য সম্প্রতি মার্কিন সিনেটে উত্থাপিত একটি বিলের রেফারেন্স টেনে এরদোগান বলেন, ‘আমরা যদি কৌশলগত অংশীদার হই, আমরা যদি আদর্শ অংশীদার হয়ে থাকি, তাহলে এখানে আমাদের সাথে আইনত ভুল পদক্ষেপ নেয়া যুক্তরাষ্ট্রের উচিত হবে না’। সামরিক ব্যয় সম্পর্কিত বিলটি ভোটের জন্য রিপাবলিকান এবং ডেমোক্র্যাটিক উভয় দলের সিনেটররা চাপ দিচ্ছেন। এই বিলে বলা হয়েছে, যদি আঙ্কারা ন্যাটোর আন্তঃক্রিয়ার অবনতি ঘটায় এবং ন্যাটোর সম্পদকে প্রতিক্রিয়াশীল দেশের নেতাদের কাছে প্রকাশ করে সেক্ষেত্রে আঙ্কারাকে প্রতিশ্রুত বিমান দেয়া হবে না।
মার্কিন নিষেধাজ্ঞার অধীন দেশগুলোর কাছে আঙ্কারা অস্ত্র বিক্রির চেষ্টা করতে পারে- এই আশঙ্কা থেকেও সিনেটররা তুরস্ককে বিমান না দেয়ার কথা বলছেন। মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও তুরস্কের মধ্যে হঠাৎ এই তিক্ত সম্পর্কের কারণ আঙ্কারায় আটক মার্কিন নাগরিক অ্যান্ড্র ব্রানমানকে নিয়ে উত্তেজনা। তার বিরুদ্ধে তুরস্কের আদালতে সন্ত্রাসবাদ ও গোয়েন্দাগিরির অভিযোগ আনা হয়েছে।
ব্রানমান যদি দোষী সাব্যস্ত হন তাহলে তার ৩৫ বছর পর্যন্ত জেল হতে পারে। সম্প্রতি ব্রানমানকে মুক্ত করার বিষয় নিয়ে তুরস্ক ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে টানাপড়েন সম্পর্ক শুরু হয়। আর এ কারণেই যুক্তরাষ্ট্র এফ-৩৫ বিমান বিক্রি বন্ধ করে দেয়ার উদ্যোগ নেয়।
২০১৬ সাল থেকে ব্রানমান সেখানে প্রাক বিচারিক আটকাদেশে রয়েছেন। তাকে ছাড়ার ব্যাপারে তুরস্কের কঠোর মনোভাবের কারণে এই সিদ্ধান্ত নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। সিরিয়ার বিষয় নিয়েও তুরস্কের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের দূরত্ব রয়েছে। রাশিয়া থেকে এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র কেনার তুর্কি পরিকল্পনার প্রাক্কালে বিলটি উত্থাপন করা হলো। চুক্তিটি গত ডিসেম্বর আঙ্কারা ও মস্কোর মধ্যে সম্পাদিত হয়েছিল।






