তিন.
তোর মতো সবাই যদি দেশের জন্য কাজ করত তাহলে বিদেশী অ্যাম্বেসিগুলোতে এরকম লাইন পড়ত না।’
জুয়েল একটা চেয়ার টেনে বসে পড়ল। ‘দেশে কাজ নেই ভাই, কী করবে বলেন?’
নাভিদ একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলল। তার বেকার জীবনের কথা মনে পড়ল। বলতে গেলে সে এখনো বেকার। আগে একটি গোয়েন্দা কেসে সাফল্য পাওয়ার কারণে বেশ কিছু নগদ টাকা সরকারের পক্ষ থেকে পেয়েছিল। সেটা দিয়েই ওস্তাদ-সাগরেদ কোনোমতে সংসার চালাচ্ছে। বসে খেলে রাজার ধন ফুরায়, বেকারের ধন তো কোন ছার। একটি কাজ এই মুহূর্তেই পাওয়া দরকার। ঢাকা শহরে প্রতিদিন খুনের সংখ্যা কম নয়। কিন্তু তাতে খুব একটা গোয়েন্দার দরকার হয় না। পুলিশেই তার সমাধান করতে পারে বা করে। তার কাছে কেউ আসে না। পত্রিকায় ছোট করে তার সাফল্যের খবর এবং প্রাইভেট গোয়েন্দার খবর উঠলেও সেটা তেমন একটা চাউর হয়নি। সে কারণেই হয়তো তার কাছে কেউ আসছে না। পুলিশ অফিসার রাকিবেরও প্রমোশন হয়ে পোস্টিং হয়েছে। সে চলে গেছে খুলনায়।
নাভিদ রুক্ষ স্বরে বলল, ‘বিদেশে গিয়েও যেসব খুব ভালো আছে, তা তো নয়। সেখানেও কাজ নেই। তাদের দেশেও হাজার হাজার বেকার। নিম্নশ্রেণীর কিছু কাজ পায়। তাতে পরিশ্রমে শরীর টেকে না। পত্রিকার পাতা খুললেই দেখি মৃত শ্রমিককে বিদেশ থেকে ফেরত পাঠানো হচ্ছে। বিদেশ থেকে মানুষ ফেরে না। লাশ ফেরে। কিন্তু সবাই নির্বিকার।’
(চলবে)