পাঁচ.

আজই হয়তো দেবে। ওস্তাদের কাছে দেরী বলে কিছু নেই। ধর তক্তা, মার পেরেক অবস্থা। উন্মুক্ততেও ওস্তাদের চাপাচাপিতে ভর্তি হতে হয়েছে। পড়ালেখা একবার ছেড়ে দিয়ে আবার করা যে কি কষ্টের সেটা ওস্তাদকে বোঝাবে কে?
নাভিদ হাতের মার্কার পেন দিয়ে পত্রিকার একটা খবরে বক্স করতে করতে বলল, ‘তুই আজই তোর সেই ইন্টারনেটের দোকানে ভর্তি হতে কত লাগে খোঁজ খবর নিবি। খালি একাউন্ট খুললেই হবে না। ওটা চালানো শিখতে হবে।’
‘ভাই, আপনার কি কোনো ওই মেইল না ইমেইল একাউন্ট আছে?’
‘আছে। কেন?’
‘না মানে আপনি সুন্দরবনকে ভোট দিয়েছেন?’
‘না। দেইনি। কেন?’
‘দিয়ে দেন। হাতে তো বেশি সময় নেই।’
‘ঠিক আছে। তোকে ভর্তি করানোর সময় দিয়ে দেব। যদিও সুন্দরবন আপন বৈচিত্র্যে সৌন্দর্যে তার জায়গা করে নেবে। তবুও আমার ভোটটা আমি দেব। একটা ভোট নষ্ট করা ঠিক নয়। আচ্ছা, বলত কোইনসিডেন্স কি জানিস?’
‘না।’ বিদঘুটে ইংরেজি শব্দ শুনেই জুয়েল চিন্তাভাবনার ধার দিয়ে গেল না।
‘কোইনসিডেন্স মানে হচ্ছে কাকতালীয়। তুই তালগাছের নিচে বসে ভাবছিস, যদি তাল ছিঁড়ে একটা তোর মাথায় পড়ে! ঠিক সেই সময় কাক তালগাছের পাকা তালের উপর বসল। ছিড়ে পড়ল তোর মাথায়। তুই চিৎপটাং। ব্যাপারটা হয়ে গেল কাকতালীয়।’
‘আপনার কথা কিছু বুঝলাম না।’
(চলবে)