ছয়.

‘বুঝিয়ে বললে ঠিকই বুঝবি। আমি বসে বসে পেপারে সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য, সুন্দরবনের প্রাকৃতিক সপ্তাশ্চর্য নির্বাচন, ভোট দেওয়া, এসব নিয়ে একটা ফিচার পড়ছিলাম। ঠিক তখনই তুই এসে বললি তুই সুন্দরবনকে ভোট দিয়ে এসেছিস। ব্যাপারটা কাকতালীয় হয়ে গেল।’
এই সময়ে গেটের বাইরে গাড়ির হর্ন শোনা গেল। জুয়েল জানালা দিয়ে তাকাল। তারপর বলল, ‘ভাই, আরেকটা কাকতালীয় ব্যাপার ঘটে গেছে মনে হয়।’
‘মানে?’
‘ওই যে দেখেন, গেটের সামনে পুলিশের গাড়ি। বলছিলেন না কোনো কেসকাস নেই। মনে হয়, একটা কেস এসে গেছে। কাকতালীয় ব্যাপার না ওস্তাদ?’
নাভিদ পত্রিকা ভাঁজ করে রাখতে রাখতে বলল, ‘যা, গেট খুলে ব্যাপারটা কি দেখে আয়। দেখি তোর কাকতালীয় ব্যাপার কিনা?’

জুয়েল গেট খুলে বাইরে এলো। পুলিশের গাড়ি তখনও হর্ন বাজিয়ে যাচ্ছে। ড্রাইভারের পাশে বসা পুলিশের পোশাক পরা লোকটা জিজ্ঞেস করল, ‘এখানে মেজর নাভিদ বলে কেউ থাকে?’ ‘জ্বি। নাভিদ স্যার এখানে থাকেন। এইটা তার বাসা।’ মেজর শুনে জুয়েল ভাব বাড়াতে স্যার সম্বোধন করল। যেন সে মেজরের রানার।
‘তিনি কি বাসায় আছেন?’
‘জ্বি আছেন? আপনি কি ভিতরে আসবেন?’ জুয়েল মুখে বলল না, ‘স্যারকে কি ডেকে দেবো?।’ মেজর যখন বলেছে আর গাড়ি চালিয়ে এসেছে তখন গরজ এই পুলিশেরই বেশি।
(চলবে)