বারো.

কিছু বলেও না। খালি চোরের মতো তাকায়। আর আপনার কথা জিজ্ঞেস করে।’
‘কই সে ব্যাটা?’
‘গেটের বাইরে দাঁড় করিয়ে রেখে এসেছি। আপনি বললেই ডেকে আনি।’
নাভিদ বিরক্ত গলায় বলল, ‘কি যে করিস না তুই। যা শিগগির ভেতরে এনে ড্রয়িংরুমে বসা। আমি আসছি। আর একটু চায়ের ব্যবস্থা করিস। বিস্কুটের দরকার নেই।’
‘জো হুকুম জাঁহাপনা।’
জুয়েল যাকে নিয়ে ভেতরে ঢুকল তাকে দেখে নাভিদ অবাক হলো। জুয়েলের কথা শুনে সে-ও ওরকম ভবঘুরে টাইপের কেউ হবে ভেবেছিল। কিন্তু লোকটা যে সম্ভ্রান্ত তা তার পোশাক আশাকে বলে দেয়। যদিও চেহারায় উৎকণ্ঠার ছাপ প্রবল। আর সেখান থেকে ওরকম একটা চাহনি তৈরি হয়ে গেছে। ভদ্রলোকের খুলে রাখা সু-য়ের দাম কমছে কম দুই হাজার টাকা হবে। মোজাও শ’য়ের উপরে। শার্ট, প্যান্ট দামি কোম্পানির। আর্মেনির না হয় গুচির। বাম হাতের কব্জিতে আঁটা গোল্ডপেইন্টের টাইটান ঘড়ির দাম হাজার সাতেকের নিচে না।
মাঝ বয়সী ভদ্রলোক যে এসি ঘরে থাকতে অভ্যস্ত তা তার চামড়ায় হলদেটে ভাবের জন্য ধরা পড়েছে। মাথার সামনের দিকের হাল্কা টাকের আভাসকে গ্রাম্যভাষায় সুখটাকই বলে। স্ট্রাইপের ইন করা শার্টের নিচে ভুঁড়ি বেড়ে চলেছে। চেয়ারে হেলান দিয়ে বসলেই শুধু এই টাইপের ভুঁড়ি তৈরি হয়। আর বড় কর্মকর্তা বা ব্যবসায়ী চেয়ারপারসনরাই এরকম ভাবে বসে ভুঁড়ি তৈরি করে।
(চলবে)