তেরো.

ভদ্রলোকের সব শরীরের সাথে বেমানান জিনিসটা হচ্ছে তার চেহারায় উদ্বিগন্তার ছাপ। কপালে চার পাঁচটা সমান্তরাল ভাঁজ পড়েছে। ভুরু কুঁচকে আছে। চোখের নিচে এক পোছ কালি। যেন বিগত কয়েক রাত ঘুম হয়নি। চোখের দৃষ্টি যেন ভরসাহারা, যেটা জুয়েলের কাছে চোরের চাহনি মনে হয়েছে। ভদ্রলোক যেন কিছুটা আতঙ্কিত। কেউ তার পিছু নিয়েছে এমনভাবে বার দুই খোলা জানালার দিকেও তাকিয়েছে।
নাভিদ টেবিলের ওপর রাখা বোতল থেকে পরিষ্কার করা কাচের গ্লাসে পানি ঢেলে এগিয়ে দিয়ে বলল, ‘নিন, একটু ধাতস্ত হয়ে নিন। এ বাড়ি সুরক্ষিতই বলা যায়।’
ভদ্রলোক এক চুমুকে সবটুকু পানি শেষ করে শ^াস নিয়ে নিঃশ্বাস ফেলে বললেন, ‘আমি নাভিদ সাহেবের কাছে এসেছিলাম...আপনিই কি...’
নাভিদ পানির গ্লাস বোতল সরিয়ে রাখতে রাখতে বলল, ‘হ্যাঁ। কেউ কি আপনার পিছু নিয়েছে?’
ভদ্রলোক একটু ইতস্তত করে বললেন, ‘না মানে ঠিক পিছু নেয়া নয়...আমাকে মোবাইলে ওরা হত্যার হুমকি দিয়েছে।’
‘আপনি আরেকটু সময় নিন। তারপর ঘটনাটা আমাকে খুলে বলুন। তার আগে বলুন আপনি আমার পরিচয় পেলেন কিভাবে?’
ভদ্রলোক গলা নিচু করে বললেন, ‘আমাদের থানার পুলিশ অফিসার সামিউল সাহেবই আপনার খোঁজ দিয়েছে। অবশ্য তার কথা জানাতে নিষেধ করেছে, কিন্তু আপনাদের কাছে তো কিছু লুকাতে নেই।’
নাভিদ একটু রহস্যময় হাসি হেসে বলল, ‘ঠিকই বলেছেন। (চলবে)