বলছি, ‘দামারা’ একটি নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠীর নাম । এরা দামান বা দামানজুয়া নামেও পরিচিত। মোট দামারা জনসংখ্যা প্রায় ২ লাখ ২০ হাজার। আফ্রিকার দেশ নামিবিয়ার মোট জনসংখ্যার প্রায় আট দশমিক পাঁচ শতাংশ এ জনগোষ্ঠী। এদের বেশির ভাগ বাস করে উত্তর-পশ্চিম এলাকায়। দেশের অন্যান্য অংশেও এদের দেখা যায়।
এ জনগোষ্ঠীর অনেক মানুষ পল্লীর নিজস্ব খামারে বাস ও কাজ করলেও বেশির ভাগ থাকে এরোন্গো এলাকার বিভিন্ন শহরে। রাজধানী উইন্ডহকেও এদের বসবাস রয়েছে।
দামারারা আফ্রিকান ও খ্রিষ্টধর্ম অনুসরণ করে। এরা কথা বলে দামারা বা হিয়ারো ভাষায়। দামারাদের সাথে আফ্রিকার কোনো এলাকার কোনো গোত্রের সাংস্কৃতিক সাদৃশ্য দেখা যায় না। আর এদের শেকড় সম্বন্ধেও তেমন তথ্য পাওয়া যায় না। ধারণা করা হয়, মধ্য আফ্রিকার বান্টু জনগোষ্ঠী থেকে এদের উদ্ভব। ১৮৭০ সালের দিকে মধ্য নামিবিয়ার বেশির ভাগ এলাকা ছিল দামারাদের অধীন। পরে নামা ও হিয়ারো জনগোষ্ঠী পশুচারণের জন্য এ এলাকা দখল করলে এরা স্থানচ্যুত হতে থাকে। ১৯৬০-এর দশকে দক্ষিণ আফ্রিকা সরকার দামারাদের জোর করে দামারাল্যান্ডের বান্টুস্তানে বসবাস করতে বাধ্য করে। এটি অনুর্বর ও অনাবৃষ্টির এলাকা। এখনো অনেক দামারা এখানে রয়ে গেছে। দামারা জনগোষ্ঠী ২৩টি গোত্রে বিভক্ত। প্রত্যেক গোত্রের প্রধান একজন গোত্রপতি। দামারা জনগোষ্ঠী পশুসম্পদে সমৃদ্ধ। এরা গরু, মহিষ ও ভেড়া পালন করে। কিছু গোত্রপতির প্রত্যেকে আট হাজার পর্যন্ত পশুর অধিকারী। দামারা পুরুষের ঐতিহ্য শিকার ও পশুচারণ করা। আর নারীর কাজ গৃহকর্ম।