দুই.
বড়দের ঢাউস সাইজের ঘুড়ি উড়ানো দেখতে। সে সব এক মানুষ উঁচু ঘুড়ি উড়াতেই তিন-চারজন শক্ত সামর্থ্য মানুষের দরকার হতো। সুতোগুলো হতো পেন্সিলের মতো মোটা। বড় বড় বাঁশ কেটে লাটাই বানানো হতো। বাতাস বাড়লে সেই লাটাই ধরে রাখা একজনের কম্মো ছিল না।
একবার তো কার্তিক চেয়ারম্যানের রোগাপটকা শুটকোমতো সৌখিন কিনুদা ঢাউস সাইজের এক বাকসো ঘুড়ি বানিয়ে ফেসে যায়। আরেকটু হলেই গিয়েছিল আর কি! জন্মের মতো ঘুড়ি উড়ানোর সাধ মিটে যেত। চেয়ারম্যানের ছেলে বলে সবাইকে টেক্কা দিতে দুই মানুষ সমান বড় বড় দুটো মোটা কাগজের বাকসো বানিয়ে জুড়ে দেয়। তারপর মাতব্বরি করে একাই ঘুড়ির লাটাই ধরে বাহাদুরি দেখাতে থাকে। হঠাৎ করে শেষ বিকালের ঘূর্ণি বাতাসে মুহূর্তের মধ্যে লাটাই ধরা রোগা পটকা শৌখিন কিনুদা ঢাউস ঘুড়ির সাথে সাথে চোখের পলকে আকাশে উঠে যেতে থাকে। মাঠ ঘাট পুকুরটুকুর পেরিয়ে সবাই কিনুদার পিছে পিছে দৌড়াতে থাকে। কিনুদা ভোঁ ভোঁ করে কিছুদুর উঠে তারপর একসময় সবাইকে অবাক করে দিয়ে সাদা কোচকানো ধুতিটুতি নিয়ে নেমে পড়ে দুর্গন্ধময় এঁদো ডোবায়। ওখানে কয়েক দিন আগে পাট পচানো হয়েছিল। এত ভালো ভালো জায়গা থাকতে কেন এঁদো পচা ডোবায় ল্যান্ড করেছিল তা ছোটরা আজো জানতে পারেনি। কিনুদার কাছে জিজ্ঞেস করতে গেলে ধমক খেতে হবে বলে আর কেউ জিজ্ঞেস করার সাহস দেখায়নি। তার পর কিনুদা চলে গেল শহরে পড়তে। মাঝে মধ্যে গ্রামে এলেও কেউ আর ঘুড়ি উড়াতে দেখেনি তাকে। এমনকি নিজে না উড়াক, অন্যের উড়ানো দেখতেও মাঠে আসত না কিনুদা। বেচারা ওইদিন খুব লজ্জা পেয়ে গিয়েছিল।
রিয়াজের মনের লাটাই লাগাম ছাড়া হওয়ায় বিচিত্র টাইপের ঘুড়ি তার চোখের সামনে ভেসে ওঠে। ছোটরা ঢাউস টাইপের ঘুড়ির চেয়ে বিচিত্র রঙের, বিচিত্র সাজের ঘুড়ি বেশি পছন্দ করত। তারা ঘুড়ি তো ছিল বড় সড় একটা তারার মতোই। সাপ ঘুড়ির লেজ মানে সাপের লেজ কে কত লম্বা করতে পারত তাই নিয়ে প্রতিযোগিতা হতো।
(চলবে)
