তিন.
বোনটার জন্য খুব মায়া হয় তার। দুঃখ কষ্টে, অভাব অনটনে দুঃখ কষ্টে অনভ্যস্ত দরদি মা পাগল হয়ে যায়। পাগলীর বেশে গ্রামে গ্রামে ঘুরতে থাকে। তাদের কাউকে চিনতে পারে না। তারপর একদিন গ্রাম থেকে কোথায় জানি উধাও হয়ে যায়। তার গ্রামসম্পর্কীয় চাচারা আশপাশে খোঁজখবর করে নিজ নিজ কাজে মন দেয়। সবাই বলে তার মাকে জিনপরীতে তুলে নিয়ে গেছে। আর ফেরত আসবে না।
তাদের ছোট্ট আমুদে সংসারটা যেন বানের জলে ভেসে যায়।
মায়ের কথা মনে পড়তেই তার ছোট ছোট দুচোখ পানিতে ভরে যায়। কাছের ঘুড়িগুলো ঝাপসা হয়ে আসে। মা যে তাকে কী ভালোই না বাসত! সব মায়েরা বোধ হয় তাদের সন্তানদের খুব ভালোবাসে। তার মামীও বাবুটাকে খুব ভালোবাসে। একটু বাড়াবাড়ি রকমের ভালোবাসে। তবে তার মামীর ভালোবাসা শুধু নিজের সন্তানেই সীমাবদ্ধ। একই মানুষ অন্যের সন্তানের বেলায় এত কঠোর হতে পারে তা নিজের চোখে না দেখলে সে বিশ্বাস করত না। তার মা তাকে খুব ভালোবাসত, তাই বলে অন্যদের জন্য তার মায়ের ভালোবাসায় কমতি ছিল না। কোনো ভিখারি ছেলে এসে খেতে চাইলে তাদের জন্য বেড়ে রাখা ভাত তরকারি অবলীলায় ভিখারি ছেলেকে দিয়ে দিত। সামনে বসে খাওয়ার তদারকি করত। তখন কি তার মা জানত যে তার ছেলে-মেয়েকেও একদিন অমন করে মানুষের বাড়িতে ভিক্ষে করে খেতে হবে।
কী একটা মনে আসি, মনে আসি করেও মনে আসতে চায় না রিয়াজের। ব্যাপারটা বাবা, মা, ঘুড়ি, বোন এসব অতীত সম্পর্কিত না। এখনকার এই বাস্তবেরই কোনো একটা কাজের কথা। ধা করে মনে পড়ে যায় তার। চুলার ওপর দুধ জ্বালে রেখে এসেছিল। গত সপ্তাহে এই দুধ পোড়ানো নিয়ে মামীর হাতে হেভি পিটুনি খেয়েছে সে। সে মারের দাগ, ঘা এখনো শুকায়নি। আজকেও নির্ঘাত আরেক প্রস্ত হয়ে যাবে তার হাড্ডিসার শরীরের হাড়ের ওপর দিয়ে। হাড় আস্ত রাখতে কি আজ আর মামী ছাড়বে? দুধ কি এতক্ষণে এক ফোঁটাও অবশিষ্ট আছে?
ভয়ে হাত পা ঠাণ্ডা হয়ে আসতে থাকে রিয়াজের। দুরু দুরু বুকে ছোট ছোট পা ফেলে এক প্রকার দৌড়েই নেমে আসতে চায় সে। (চলবে)
তিন.বোনটার জন্য খুব মায়া হয় তার। দুঃখ কষ্টে, অভাব অনটনে দুঃখ কষ্টে অনভ্যস্ত দরদি মা পাগল হয়ে যায়। পাগলীর বেশে গ্রামে গ্রামে ঘুরতে থাকে। তাদের...
