পাঁচ.
গত দিনে বৃষ্টি হয়ে যাওয়ায় ছাদ স্যাঁতসেঁতে হয়ে আছে। তিনতলার উপরে মামী আরো দু-একতলা উঠাবে বলে ছাদে কোনো রেলিং নেই। এখানে ওখানে লোহার শিক মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে। বৃষ্টির সময় ছাদের দরজা খোলা ছিল বলেই কিছু পানি ছিটকে সিঁড়িটাকে ভিজিয়ে রেখেছে। তিনতলার সিঁড়িটা স্যাঁতসেঁতে না হলেও ভেজা ভেজা হয়ে আছে।
ছাদের উপর দিয়ে পা টিপে টিপে এলেও সিঁড়িতে এসে একটু তড়িঘড়ি করে ফেলে সে। তার স্যান্ডেলের তলা ক্ষয়ে সমান হয়ে থাকায় বিপত্তি ঘটে যায়। ভেজা সিঁড়িতে পায়ের স্যান্ডেল সরে হুড়মুড় করে পড়ে যায় সে। সিঁড়ির শেষ মাথায় সমান জায়গায় গিয়ে থামে। সিঁড়ির ধাপের সংখ্যা কম হওয়ায় খুব একটা ব্যথা পায় না। শুধু মাথার সামনে কপালের ডানপাশে রেলিংয়ের গোড়ায় লেগে আবের (রোগজনিত মাংসপিণ্ড) মতো ফুলে ওঠে। আর কনুয়ের কাছে যেখানে গত দিনের মারের ফলে ঘা হয়ে গিয়েছিল, সেই ঘায়ের উপর থেকে একটা কালো শক্ত চামড়া মতো খসে পড়ে। ফলে ওখান থেকে পুঁজ মেশানো চিটচিট কালচে এক প্রকার রক্ত বের হতে থাকে। তাতে ব্যথার চেয়ে বেশি ঘেন্নার উদ্রেক হয়। ঘেন্না ব্যথা আব সব ভুলে সে উঠে দাঁড়ায়। চারদিকে একটু তাকায়। কেউ দেখে ফেললে ভারি লজ্জার ব্যাপার হয়ে যাবে। না কেউ দেখিনি। বড়দের ধারণা ছোটদের লজ্জাশরম নেই। কিন্তু ছোটদেরও লজ্জা আছে। হোক না সে লজ্জা ছোট ছোট।
এই যেমন এখন সে যে রঙ ওঠা হাফপ্যান্টটা পরে আছে এর সামনে নেই কোনো চেন, নেই কোনো বোতাম, চেন ছিল সেটা কেটে গেছে। আর কেটে গেছে বলেই সে এটা পরতে পারছে। বাবুর নষ্ট হয়ে যাওয়া, ছিড়ে যাওয়া, কেটে যাওয়া, ক্ষয়ে যাওয়া জিনিসই তাকে পরতে হয়। স্যান্ডেলটাও বাবুর। তলাটা ক্ষয়ে যাওয়া। আর ক্ষয়ে যাওয়া বলেই পা পিছলাল তার। নতুন স্যান্ডেল হলে কি আর পা পিছলাত। তবু তার ভাগ্য বলতে হবে যে, হোক না পুরনো ক্ষয়ে যাওয়া চেন কাটা তবুও তো সে স্যান্ডেল পায়ে দিতে পারছে, প্যান্ট পরতে পারছে। ভিখারির ছেলের প্যান্ট জুটেছে এটাই বড় কথা। ভিখারির ছেলের তো কিছুই না পরে থাকার কথা। (চলবে)
