বারো.

কলিংবেল বেজে ওঠে। সে বাবুর হাত থেকে নিজেকে ছুটিয়ে দরজার দিকে আসতে আসতে শোনে ওর থেমে যাওয়া কান্নাটা আবার উচ্চগ্রামে চড়েছে। বিচ্চুটা বুঝে ফেলেছে যে তার আব্বু এসেছে। আর যায় কোথায়।
দরজা খুলতেই মামা ভিতরে ঢুকতে ঢুকতে ভারী গলায় গম্ভীরভাবে জিজ্ঞেস করেন ‘কি হয়েছে রে রিয়াজ? বাবু অমন করে কাঁদছে কেন?’
‘কিছু হয়নি মামা?’
মামা রিয়াজের দিকে তাকিয়ে বলেন ‘কিছু না হলে কেউ অমন করে কাঁদে নাকি? ’
বাবু চোখের পানি নাকের পানি এক করে কাঁদতে কাঁদতে অস্পষ্ট স্বরে বলে ‘আব্বু আব্বু রিয়াজ আমাকে মেরেছে। ধাক্কা দিয়ে দেয়ালের গায়ে ফেলে দিয়েছে।’
মামা বাবুর দিকে তাকিয়ে চোখ পাকিয়ে বলেন ‘শুধু শুধু তো আর ও তোমাকে মারেনি। তুমি নিশ্চয় ওকে আগে মেরেছো।’
কান্নায় খুব একটা কাজ হচ্ছে না দেখে বাবুর কান্না থেমে যায়। সে এবার বেশ স্পষ্টভাবেই বলে, ‘আমি তো ওকে মারিনি আব্বু। ও শুধু শুধু আগে আমাকে ধাক্কা দিয়েছে। তারপর আমি ওর গায়ে থুতু দিয়েছি।’
মামা জামা খুলতে খুলতে রিয়াজের দিকে তাকিয়ে বলেন, ‘তুই বাবুকে শুধু শুধু মেরেছিস নাকি?’
‘না মামা। আমি বাবুর জন্য তরকারি কুটছিলাম। তখন ও তরকারি নিয়ে চারদিকে ছড়িয়ে ফেলছিল বলে আমি ওকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দিতে গেলে ও পড়ে গিয়েছিল। ব্যথাটাতা পায়নি তেমন।’
‘তবুও ওভাবে হঠাৎ করে ধাক্কা দিবি না। বেকায়দায় লেগে একটা বিপদ ঘটতে কতক্ষণ। যা তো আমারে একটা পানির বোতল দে। ঠাণ্ডা পানি। আর শোন, আমি একটু পরে আবার বের হবো। তোর মামী আসলে বলিস দুপুরে আসব না। ফিরতে ফিরতে বিকেল হবে। নারায়ণগঞ্জের দিকে যাবো। এসেই গাজীপুরে যাবো। ওদের রেডি থাকতে বলিস। কি, বলতে পারবি না? মনে থাকবে তো?’
‘জি মনে থাকবে।’
‘রান্না বান্না কিছু করেছিস?’
(চলবে)