চৌদ্দ.
বেশির ভাগ দিনই সে বেঁচে থাকার জন্য যেটুকু না হলেই নয় সেটুকু খেয়েই ময়লা পাত্রে খাবার ফেলে দেয় মামীর চোখ এড়িয়ে। রাতেও একই ঘটনা ঘটে। সন্ধ্যায় সন্ধ্যায় বাবুকে খাইয়ে দিয়ে সে মামা-মামীর জন্য খাবার গরম করে টেবিলে সাজাতে থাকে। টিভি দেখে ফোনটোন করে ঝগড়াঝাটি সেরে মামা-মামীর একত্রে খাবার টেবিলে আসতে রাত এগারো বেজে যায়। ততক্ষণে তার সারা দিনের ক্লান্ত দুচোখ ঘুমে ঢুলু ঢুলু। কিন্তু ওই ঢুলু ঢুলু পর্যন্তই। তারপর প্রায় ঘণ্টাখানেক জোর করে চোখ খোলা রেখে মামা-মামীর খাওয়ার তদারকি করতে হয়। তখন তার মনে মনে খুব কান্না পায়। মনে মনে কান্না সত্যিকারে রূপ নেয় যখন রাত ১২টায় খেতে বসে দেখে তার জন্য মামী প্লেটে দিয়েছে ঠাণ্ডা কড়কড়ে বরফ হয়ে যাওয়া গতকালের ফ্রিজে রাখা পাথরের মতো ভাত, টকে যাওয়া একটু ডাল এবং তাদের খাওয়া সিদ্ধ ডিমের তরকারির এক ফোঁটা তরকারি, এক টুকরো আলু এবং একটা সিদ্ধ ডিমের আধখাওয়া অংশ। দুচোখ ভেঙে প্রচণ্ড ঘুমের সাথে সাথে পেটে খিদে থাকায় তার জোরে গলা ছেড়ে কেদে উঠতে ইচ্ছে করে। সেই কান্নাও সে ঢোক চিপে গিলে ফেলে মামীর ভয়ে। এই রাত দুপুরে তার কান্না শুনে মামীর পাথর হৃদয় দ্রবীভূত হওয়া দূরে থাক বরং তাদের কেবল চেপে আসা কাচা ঘুমটা ভেঙে দেয়ার কারণে তার চৌদ্দগোষ্ঠী তুলে গালি দিতে শুরু করবে। সে কান্না চেপে রান্নাঘরের পাশের স্টোর রুমের এক ফালি জায়গার মধ্যে তার ছোট্ট তেলচিটচিটে বিছানাটা মেলে গা এলিয়ে দেয়। ইচ্ছে করেই সাথে সাথে ঘুমিয়ে পড়তে হয়। সকাল ৫টায় মামী ঘুম থেকে উঠে তাকে ডেকে কাজের ফরমায়েশ দিয়ে আবার ঘণ্টাখানেক ঘুমিয়ে নেন।
এই সময়ের ফাঁকে বাবুর জন্য নাস্তাটাস্তা বানিয়ে রেডি করে রাখতে হয়। বাবুর স্কুল শুরু হয় ৭টায়। সাড়ে ৬টায় স্কুলের গাড়ি চলে আসে। সে ঢুলু ঢুলু চোখে রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগের কাজ সারে, আবার সকালে ঘুমে ঢুলু ঢুলু চোখে নাস্তাপানি বানাতে থাকে। সে ঢুলু ঢুলু চোখে ঘুমিয়ে পড়ে, ঢুলু ঢুলু চোখে জাগে।
রিয়াজ ব্যস্তসমস্তভাবে দুপুরের আগে মোটামুটি পর্যায়ের রান্না সারে। ডাল ও পুঁইশাক ভাজি দুই গ্যাসের চুলায় একসাথে হতে থাকে। (চলবে)
চৌদ্দ.বেশির ভাগ দিনই সে বেঁচে থাকার জন্য যেটুকু না হলেই নয় সেটুকু খেয়েই ময়লা পাত্রে খাবার ফেলে দেয় মামীর চোখ এড়িয়ে। রাতেও একই ঘটনা ঘটে।...
