সতেরো.
চোখেমুখে পানি দিয়ে সে রান্নাঘরের দিকে আসে। রাতে ওরা খেয়েই ফিরবে বলে ওদের জন্য রান্না করা লাগবে না। তার নিজের জন্য রান্না করতে হবে। কিন্তু রান্না করতে ইচ্ছে করছে না। নিজে সে আর কতটুকুইবা খায়। হাঁড়ির তলা কুড়িয়ে কাড়িয়ে যে কটা ভাত পাওয়া যাবে তাতেই তার চলে যাবে। আর অধিকাংশ রাতেই তো সে না খেয়ে থাকে।
সে দুপুরের অপরিষ্কার হাঁড়িকড়াই থালাবাসনগুলো পরিষ্কার করতে বসে। কাজ শেষে তার হঠাৎ মনে হয়, এমন কী হতে পারে না যে সকালের মতো গিয়ে দেখবে যে নবটার কিচ্ছু হয়নি। যেমন ছিল দিব্যি তেমনি আছে। ভেবেই সে দৌড়ে ড্রয়িংরুমে আসতে গিয়ে ডাইনিংয়ের চেয়ারটাতে কনুইয়ের ধাক্কা খায়। তড়িঘড়ি করে হাঁপাতে হাঁপাতে ড্রয়িংরুমে ঢুকে দুরুদুরু বুকে নবটাতে হাত রাখে। কিন্তু ঘুরাতে গিয়ে জিনিসটা যখন হাতের সাথে খুলে আসে। তখন তার মনটা খারাপ হয়ে যায়। খোদা তার প্রার্থনা শোনেনি।
সে বিষণœ মনে এ ঘর থেকে ওঘরে ঘুরতে থাকে। তার একটু ভয় ভয় করতে থাকে। মনে হতে থাকে এ ঘরে ও ঘরে তার পিছে পিছে তার পাশাপাশি আরো কে একজন যেন ঘুর ঘুর করছে। যখন সে টিভির নব পরীক্ষা করছিল তখনো তার এমনটি মনে হচ্ছিল। মনে হচ্ছিল কেউ একজন তার পাশে দাঁড়িয়ে তার মতো করেই টিভির নবটা ঠিক করার চেষ্টা চালাচ্ছে এবং তাকে না দেখেও তার মনে হতে থাকে সে খুব একটা বড় নয়। তার মতোই। সকালে হয়তো সেই তার দুধের হাঁড়িতে দুধ ঠিকঠাক রেখেছিল।
বাইরে হালকা গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টি হচ্ছে। এখনো বর্ষাকাল শুরু হয়নি। প্রতিদিন বিকালে হালকা বৃষ্টি জানিয়ে দিচ্ছে আমি আসছি সাড়ম্বরে।
বাইরে বৃষ্টি ভেতরে অদৃশ্য কিছুর চলাফেরা, তার উপরে নব ভাঙার দুশ্চিন্তা সব মিলিয়ে সে এক ধরনের অস্থিরতা নিয়ে ঘরের মধ্যে চলাফেরা করতে থাকে।
সময় এবং ভয় কাটানোর জন্য টিভি দেখার কোনো বিকল্প নেই ভেবে সে আবার ড্রয়িংরুমে এসে বসে। ধীর পায়ে টিভির কাছে যায়। এখনো মনে ক্ষীণ আশা যে অদৃশ্য সেই শক্তিটা হয়তো টিভির নবটা ঠিক করে রেখেছে। (চলবে)
