বাইশ.
পরীকে ব্যথা দেয়ার অপরাধে, তাছাড়া একটা মেয়ের পিঠে চড়ে তাকে আসতে হয়েছে বলে, হোক না সে পরী, রিয়াজ লজ্জা পায়। সে লাজুক হেসে মুখ নিচু করে ফেলে। তার হাতে ধরে রাখা কাপড়চোপড় (বাতাসে ভেসে আসতে আসতে শুকিয়ে গেছে) নিয়ে আঙুলে পেঁচাতে থাকে।
পরী তার দিকে তাকিয়ে হাসি হাসি মুখে বলে, ‘কাপড়চোপড়গুলো তো বোধ হয় তোমার দরকার নেই। ও তো বড়দের কাপড়। তুমি তো পরতে পারবে না। ওগুলো এখানে ফেলে দাও। তোমার পরার জন্য আমি অনেক কাপড় দেবো।’
সে বাধ্য ছেলের মতো পরীর আদেশ পালন করে। কাপড় ফেলে দেয়। ঝাড়া হাত পা হয়ে মুখ তুলে পরীর দিকে তাকিয়ে বলে ‘আমি এখন কী করব?’
‘তোমাকে কিছু করতে হবে না। এখানে দাঁড়িয়ে থাক। আমি একটু ঘুরে এসেই তোমাকে নিয়ে যাবো। আমি আমার কাকার সাথে তোমাদের এদিকটাতে এসেছিলাম। তোমার দুরবস্থা দেখে সাহায্য করতে গিয়ে পিছিয়ে পড়েছিলাম। এদিকে কাকা চলে গেছে অন্য রাজ্যে। এখন কাকাকে নিয়ে এসে আমরা একসাথে আমাদের রাজ্যে যাবো।’
সে কী বলবে বুঝতে পারে না। তার বয়সী এই হাসিখুশি পরীটির কথা সে বুঝে উঠতে পারছে না। তাদের রাজ্য মানে কী? পরীরাজ্য? তাকে নিয়ে যাবে?
রিয়াজ হাতের উল্টোপিঠ দিয়ে কপাল মোছে। যদিও তার কপাল ঘামেনি। তারপর ইতস্তত করে বলে ‘আজ সকালে তুমি আমার দুধ ফিরিয়ে দিয়েছিলে?’
হাসিখুশি পরী হেসে ওঠে। মনে হয় যেন অনেকগুলো ছোট ছোট ঘণ্টা বাতাসে দোল খেয়ে বেজে উঠেছে। হাসির ঘণ্টাধ্বনি ধরে রেখে পরী বলল, ‘তোমাদের ছাদের উপর দিয়ে উড়ে যাচ্ছিলাম। প্রচণ্ড পোড়া উৎকট গন্ধে কেউ বিপদে পড়েছে অথবা ঘরে আগুন ধরে গেছে ভেবে জানালা দিয়ে ভিতরে ঢুকে পড়লাম। ঢুকে দেখলাম দুধ পুড়ে ছাই। তারপর তোমার দুরবস্থা দেখে মায়া লাগল। দুধ এনে চুলায় দিয়ে দিলাম।’
(চলবে)
