পঁচিশ.

যে আলোয় ম্লান হয়ে গিয়েছিল গাছপালার উপরে ওঠা চাদের রূপালী আলো।
তিতলী পরী চলে যেতেই উজ্জ্বল আলোটা হঠাৎ কমে গেলে চাঁদ তার রূপালী আলো ছড়াতে থাকে। আর সে আলো সয়ে আসতেই রিয়াজ ভয়ে ভয়ে তার চারপাশটা দেখতে থাকে।
বনের মধ্যে দাঁড়িয়ে আছে তা বেশ বুঝতে পারে। তবে বনটা জংলা টাইপ না। খুব পরিচ্ছন্ন টাইপ। সব একজাতীয় লম্বা লম্বা গাছের সারি। গাছগুলোর নাম সে জানে না। পরী হয়তো জানতে পারে। প্রতিটি গাছের গোড়ার হাতখানি মতো জায়গা সাদা রঙ করা। কেন কে জানে? চাঁদের আলোয় গাছের গোড়ার সাদা রঙটাই আগে চোখে পড়ছে। বাকি গাছটা দেখাচ্ছে কালো। পাতাগুলোও কালো।
ভয় এবং কিছু করার না থাকায় সে ক্লান্তি অনুভব করে। গাছের গোড়ায় ফেলে রাখা তার মামার কাপড়চোপড়গুলোর ওপর বসে পড়ে গাছে হেলান দেয়। ভয় পেলেও কোনো লাভ নেই ভেবে সে ভয় না পাওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু ভয় এমন জিনিস তা যখন আসে তখন কোনোভাবেই ঠেকিয়ে রাখা যায় না।
সে ভয়ে কাঠ হয়ে গুটিসুটি মেরে বসে একদৃষ্টিতে সামনের দিকে তাকিয়ে থাকে। এতটুকু মানুষ ভয়ে আরো এতটুকু হয়ে গেছে। অন্য দিকে তাকাতে ভয় পাচ্ছে বলে সামনের দিকে তাকিয়ে আছে। গাছের একটা পাতা পড়ার শব্দেও সে চমকে উঠছে। চোখ বন্ধ করলে ভয় না কমে আরো বেড়ে যাচ্ছে বলে চোখ খুলে রেখেছে। তিতলী পরী কতক্ষণে তার কাকাকে খুঁজে পায় আর কতক্ষণে ফেরে কে জানে? যদি তার কাকা তাকে ফিরতে না দেয়? যদি তিতলী পরী আর না আসে? এই নাম পরিচয়হীন বনে সে একাকী কী করবে? (চলবে)