ছাব্বিশ.

হঠাৎ রিয়াজের মনে হলো চারিদিকে অন্ধকার হয়ে আসছে। চাঁদের রুপালি আলো ঢাকা পড়ে যাচ্ছে কালো মেঘের আড়ালে। ঝড় বৃষ্টি আসছে ভেবে সে আকাশের দিকে মুখ তোলে।

লম্বা লম্বা গাছের ফাঁক গলে কালো কালো কি যেন ঝপঝপ করে নেমে আসে রিয়াজের সামনে। কালো মেঘের রহস্য এবার তার কাছে পরিষ্কার হয়। এই ভয়ঙ্কর কালো মূর্তিগুলোই চাঁদ ঢেকে ফেলেছিল।
কালো মূর্তির দল ঠিক তার সামনে এসে একটু দূরত্ব রেখে দাঁড়ায়। দল থেকে একজন নেতা গোছের তার সামনে আসে। বাকিরা, প্রথমে বিশাল একদল মনে হলেও সবসহ ছয় সাতজন হবে, একটু দূরত্ব রেখে সারি দেয়া গাছের ফাঁকে দাঁড়িয়ে থাকে।
রিয়াজের ভয় করতে থাকে। ভয়ে থর থর করে কাঁপতে গিয়েও থেমে যায়। কাঁপাকাঁপি না করে দেখাই যাক না কী হয়।
ভেতরটা ভয়ে কাঁপতে থাকলেও রিয়াজ শান্তভাবে উঠে দাঁড়িয়ে কালো মূর্তির মুখোমুখি হয়।
বিশাল একপ্রস্থ কালো কাপড়ের ভিতরে সে এক খুনখুনে বুড়িকে দেখতে পায়। বুড়ির সারা মুখ অজস্র দাগে ভর্তি, মাথার চুল সব ধবধবে সাদা। মাথার সাদা চুলের উপর গোল টুপি যার উপরিভাগ সুঁচালো। কালো কাপড়টা পা পর্যন্ত ঢেকে আছে। পায়ে একজোড়া কালো নাগড়া জুতো যার মাথা সুঁচালো।
বুড়ি রিয়াজের দিকে এগিয়ে এসে কাঁপা কাঁপা জড়ানো গলায় বলল, ‘কে হে তুমি বাছা? এই জবারুর বনে একা একা কী করছ? এখানে এলেইবা কিভাবে?’ বুড়ির কণ্ঠস্বর জড়ানো হলেও তার মধ্যে কোথায় যেন একটা মিষ্টতা আছে। (চলবে)