পঁয়ত্রিশ.
তবে সবই মানুষের ছায়া। নানা আকৃতির মানুষের নানা আকৃতির ছায়া। শুধু ছায়ার সাথে মানুষগুলো নেই। হাত পা মুখ সব আছে শুধু তাতে হাড় মাংস নেই।
একটা কম বয়সী ছায়া আস্তে আস্তে যেন সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছে এরকমভাবে একটু একটু করে দুই পা এগিয়ে এক পা পিছিয়ে তার দিকে এগোতে থাকে।
যতই কাছে আসতে থাকে ততই ছায়া গাঢ় হতে থাকে। চাঁদের উজ্জ্বল আলোয় সেই কম বয়সী ছায়ার হাত পা চোখ মুখ সব কিছু স্পষ্ট হতে থাকে।
রিয়াজ মনে মনে ছায়াকে মোকাবিলা করার প্রস্তুতি নিতে থাকে। যদিও এরকম অদ্ভুত বিদঘুটে ব্যাপারে সে আগে কখনো পড়েনি। কিন্তু আগে পড়েনি বলেই যে হাত পা গুটিয়ে বসে থাকতে হবে তা তো হয় না। তাছাড়া এখন তো তার সাহস জ্ঞানবুদ্ধি আগের চেয়ে অনেক বেশি।
কম বয়সী কিশোরী ছায়াটা কিছুটা এগিয়ে এসে ঘুরে দাঁড়িয়ে পিছু হটতে থাকে। তারপর এক দৌড়ে অন্য ছায়াদের কাছে গিয়ে দাঁড়ায়। বোধ হয় তাকে ভালো করে দেখে ভয় পেয়েছে। ভয় তো পাওয়ার কথা। তার তো আস্ত একটা শরীর আছে। আর ওদের তো কোনো শরীর নেই। শুধুই ছায়া। বেচারা ছায়ারা!
রিয়াজ উঠে দাঁড়ায়। ভেবেছিল উঠে দাঁড়াতে দেখলে ছায়ারা ওখান থেকে পড়িমড়ি করে দৌড় লাগাবে। তা না করে ইতস্তত ঘোরাঘুরি করা ছায়ারা এক জায়গায় মাটির উপরে নির্দিষ্ট রেখায় দাঁড়িয়ে জটলা করতে থাকে। ওদের মধ্যে দলপতি গোছের কেউ একজন আছে। সেই মিটিংয়ের মতো করে ওদের ডেকে কোনো একটা সিদ্ধান্ত দিচ্ছে।
(চলবে)
