একচল্লিশ.
এ জন্য এখানকার সব কিছু ঠিক মতো জানিও না। তোমাকে সব কিছু এ জন্য বলতেও পারবো না।’
কিশোরীর মা বোধ হয় মেয়ে ছায়াকে ধমক লাগায়। কিছু অবশ্যি শোনা যায় না। কিন্তু ভঙ্গিটা ধমকের। সবচেয়ে আশ্চর্যের ব্যাপার ওরা নিজেরা যখন কথা বলছে তখন সেটা হয়ে যাচ্ছে ইশারার মতো। কথা হচ্ছে নিঃশব্দে। শুধু ছায়াগুলোর ঠোঁট নড়ছে। অথচ তার সাথে যখন কথা বলছে তখন সেটা বেশ শব্দ করেই বলছে।
সে একটু অবাক করা গলায় মেয়েটাকে জিজ্ঞেস করল ‘আচ্ছা, তোমরা নিজেরা কথা বললে আমি শুনতে পাচ্ছি না কেন? অথচ আমার সাথে তো তোমরা বেশ কথা বলছ।’
মেয়েটি উত্তর দেয়ার আগেই মা বলে ওঠে ‘আসলে আমরা নিজেদের মধ্যে যখন কথা বলছি তখন আমাদের যে তরঙ্গ দৈর্ঘ্য লাগছে তা তোমরা শরীরধারী মানুষের শোনার কথা নয়। ওই যে বিজ্ঞানে কি সব হার্জ টার্জ বলে না। ওটারই ব্যাপার স্যাপার। আমরা নিজেরা কথা বলছি বিশ হার্জের নিচে। তোমাদের সাথে কথা বলতে গেলে বিশ হার্জের উপরে যেতে হচ্ছে। তোমরা মানুষেরা তার নিচে শুনতে পাও না।’
মা ছায়াটা তার আরো কাছে এগিয়ে আসে। ছায়া গাঢ় হয়। ছায়ার প্রতিটি অঙ্গপ্রত্যঙ্গ খাতায় আঁকা ছবির মতো স্পষ্ট হয়। মেয়েটি একটু দূরে দাঁড়িয়ে থাকে।
মা ছায়া নরম গলায় বলে ‘যাই বাছা। আমাদের নিজেদের রাজ্যে। ছায়ারাজ্যে। যেয়ে দেখব নতুন অনেক ছায়া পৃথিবীতে থেকে হাজির হয়েছে। পৃথিবী থেকে এখন প্রতিনিয়ত হাজার হাজার লাখ লাখ ছায়া হাজির হচ্ছে ছায়ারাজ্যে। ছায়ারাজ্য এখন ছায়াবহুল একটি রাজ্য। শুনেছি আগে নাকি এমনটি ছিল না। (চলবে)
