বিয়াল্লিশ.
খুব কম ছায়াই ছায়ারাজ্যে আসত। আর এখন পৃথিবীর অবস্থা এমন হয়েছে সবাই সবাইকে ছায়ারাজ্যে পাঠিয়ে দিতে ব্যস্ত। তাই সে যেতে না চাইলেও। আসলে এই ছায়ারাজ্যে কেউ আসতে চায় না। জোর করে পাঠিয়ে দিতে হয়। তবে তোমার ব্যাপারটা আলাদা। তুমি তো শরীরসহ চলে এসেছ এখন আমাদের ছায়ারাজ্যে ঘুরে এসো। হয়তো সেখানে তোমার ছায়াটাকে পেয়ে যেতে পারো। আর না পেলেও নতুন একটা অভিজ্ঞতা হবে তোমার বাছা।
‘সেখানে আমি যাবো কিভাবে?’
‘হ্যাঁ, সেটাই একটা সমস্যা। আমরা ছায়ারা দ্বিমাত্রিক বলে আমরা কাউকে কিছু দিতে পারি না। শুধু দৈর্ঘ্য প্রস্থে কাউকে কিছু দেয়া যায় না। তোমাকে যদি এমন একটা জাদুর আয়না দিতে পারতাম যা দিয়ে দেখে দেখে তুমি ছায়ারাজ্যে চলে আসতে পারতে। কিন্তু সেটা সম্ভব নয়। দেখি কী করা যায়। আমি অন্য বয়স্ক ছায়াদের সাথে একটু কথা বলে আসি। আমরা নতুন এসেছি তো এসব ব্যাপারট্যাপারে এখনো অভ্যস্ত হয়ে উঠিনি। তুমি এখানে দাঁড়াও। আমি কথা বলেই আসছি।’ বলে মা মেয়ের ছায়া একসাথে দ্রুততার সাথে অন্য ছায়াদের কাছে চলে যায়।
রিয়াজ দাঁড়িয়েই থাকে। আর যাবেইবা কই? তিতলী পরী না আসা পর্যন্ত এখানেই দাঁড়িয়ে থাকতে হবে। আর একান্তই যদি না আসে তাহলে নিজের পথ নিজেকেই খুঁজে নিতে হবে। ভালোবাসাময় সাহসী বুদ্ধিমান মানুষের জন্য পথ কোনো সমস্যা নয়। একটা না একটা পথ বের হবেই।
ছায়ারা যেমন দ্রুততার সাথে গিয়েছিল তেমন দ্রুততার সাথেই ফিরে আসে। ছায়ার বোধ হয় বেশ মজা। শরীর না থাকায় সবকিছু বেশ তাড়াতাড়ি করতে পারে। যখন খুশি যেখানে খুশি যেতে পারে। বন্ধ দরজার ফাঁক গলিয়েও ঢুকে পড়তে পারে। (চলবে)
বিয়াল্লিশ.খুব কম ছায়াই ছায়ারাজ্যে আসত। আর এখন পৃথিবীর অবস্থা এমন হয়েছে সবাই সবাইকে ছায়ারাজ্যে পাঠিয়ে দিতে ব্যস্ত। তাই সে যেতে না চাইলেও। আসলে এই ছায়ারাজ্যে...
