চুয়াল্লিশ.
এ তো নরম গলার ডাক। সে ভালো করে চোখ মেলে তাকাতেই তার সামনে উবু হয়ে বসা গোলাপী পরমা সুন্দরী পরীকে দেখতে পায়। দেখেই কী যে ভালো লাগে তার। যেন ছোট্ট ছেলে ভিড়ের ভিতরে হারিয়ে যাওয়া তার মাকে খুঁজে পেয়েছে এরকম একটা দীপ্তি রিয়াজের চোখে মুখে।
চারদিকে দিনের প্রথম আলো নরম মেজাজে তাপ দিচ্ছে।
রিয়াজের উঠে দাঁড়ানো দেখে তার সাথে সাথে গোলাপী তিতলী পরীও উঠে দাঁড়ায়। তারপর নরম গলায় বলে ‘বেশ একটা ঘুম দিয়ে নিয়েছ দেখছি।’
রিয়াজ গম্ভীর স্বরে বলল, ‘হু। তা তোমার আসতে এত দেরি হলো কেন?
‘আরে দুর দুর। আর বলো না। কাকাকে খুঁজতে গিয়ে মেজাজটাই বিগড়ে যাওয়ার জোগাড়।’ পরীর কণ্ঠস্বরে স্পষ্ট বিরক্তি। রিয়াজ একটু অবাক হয়। পরীরাও তাহলে মানুষের মতো বিরক্ত হয়। রাগ প্রকাশ করে।
রিয়াজ খুব নরম গলায় বলল, ‘কেন কী হয়েছে? কাকাকে খুঁজে পাওনি?’
‘খুজে ঠিকই পেয়েছি। কিন্তু নিয়ে আসতে পারিনি।’
‘কেন?’
‘সেই জন্যই তো বলছি দুর দুর। আমার কাকা পৃথিবীর এক মেয়ের মায়ায় পড়ছে।’
‘মানে?’
‘মানের আমি কী বুঝি? আমার কাকাটা না একটা ইয়ে। কোনো সুন্দরী মেয়ে দেখলেই হলো, কাকা তার মায়ায় পড়ে যাবে। আর তা ঘটে শুধু মানুষের মেয়ের বেলায়। কাকা আমাদের পরীদের কাউকে বিয়ে করতে চায় না। আগেও এমনটি ঘটেছে। পৃথিবীতে গেলেই কাকা কোনো না কোনো মানুষের মেয়ের মায়ায় পড়েছে। কেন এমন হয় আমি বুঝি না।’ (চলবে)
