ছেচল্লিশ.

মানুষ বোধ হয় ওরকমই। নিজের পেটে খিদে থাকলে অন্যের কথা খেয়াল থাকে না।
রিয়াজ লজ্জিত ভঙ্গিতে জিজ্ঞেস করে, ‘তুমি কিছু খেয়েছ?’
‘আমাদের পরীদের মানুষের মতো অত ঘন ঘন খাওয়া লাগে না। তার পরেও তো খেতে হয়। পৃথিবীতে গিয়ে কাকার সাথে দেখা করার সময় খেয়ে নিয়েছি। আর আমাদের রাজ্যে ফিরে গেলেই তো আয়েশ করে খেতে পারব। কাজেই আমার খাওয়া নিয়ে চিন্তিত হতে হবে না। এখন চলো আমরা আমাদের রাজ্য নজীবীনের দিকে রওনা দেই। আচ্ছা একটা কথা, এখানে এই গাছের নিচে সারারাত একা একা বসে থাকতে তোমার ভয় করেনি?
‘করেনি আবার! প্রথম প্রথম খুব ভয় লাগছিল। তারপর যাযাবর ডাইনিরা এসে আমাকে সাহস দিয়ে গেলে আর ভয় লাগেনি।’
‘তাহলে যাযাবর ডাইনিদের সাথে তোমার দেখা হয়েছে। ওরা খুব ভালো ডাইনি। কারোর কোনো ক্ষতি করে না। আর সবার উপকারের জন্য যাযাবরের মতো ঘুরে বেড়ায়। আর এটাই সহ্য হয় না আরেক দল ডাইনির। তারা কারোর ভালো দেখতে পারে না। তারা ওদের পিছু লেগে থেকে অনিষ্ট করার চেষ্টা করে। কিন্তু ওরা এত ভালো যে পেরে ওঠে না।
‘ওরা তো তোমাদেরও ভালো করে।’
‘ঠিক তা নয়। ওরা আসলে কফর নাগম রাজ্যের পরীদের ভালো করে, আমাদের নজীবীন রাজ্যে মাইগ্রেশন করে দেয়। এজন্য ওদের সাথে আমাদের একটা ভালো সম্পর্ক আছে। ভালো যারা সবার সাথেই তাদের ভালো সম্পর্ক থাকে। ভালোর সাথে তো থাকেই। খারাপের সাথেও।
‘আর ছায়ারা? ওরা কেমন?
‘ছায়াদের সাথেও তোমার দেখা হয়ে গেছে নাকি? (চলবে)