সাতল্লিশ.
‘হ্যাঁ। শুধু দেখা না। কথাও হয়েছে।
‘সেকি! বেশ তো। সত্যি বলতে কি ছায়াদের ব্যাপারটা আমি ঠিকমতো কিছুই জানি না। বড়দের মুখে ওদের অনেক গল্প শুনেছি। কখনো নিজের চোখে দেখিনি। তাছাড়া আমাদের পরীদের কোনো ছায়া থাকে না তো। সেজন্য ওদের কর্মকাণ্ডও কিছু জানি না। তবে ওরা তো ছায়া, কারোর ক্ষতিটতি বোধ হয় করতে পারে না।
রিয়াজ এবার তিতলী পরীর দিকে তাকায়। সকালের এই মিষ্টি রোদে তিতলী পরীর কোনো ছায়া পড়ছে না। আর্শ্চযের ব্যাপার! তার নিজেরও কোনো ছায়া নেই।
‘ছায়া থাকে মানুষের। ছায়া রাজ্যের সব ছায়াই মানুষের ছায়া। আচ্ছা তোমার তো ছায়া থাকার কথা। ছায়া দেখছি না তো। তোমার ছায়াটা গেল কই?’
‘সেটা নাকি ছায়ারাজ্যে থাকতে পারে ওরা বলল। আর আমাকে ছায়ারাজ্যে যাওয়ার পথও বাতলে দিয়েছে। আমি শুধু মনস্থির করলে নাকি আমার চোখই আমাকে পথ দেখিয়ে নিয়ে যাবে।’
তিতলী পরী কৌতূহলের সাথে বলল, ‘তুমি গেলে আমাকেও নিয়ে যেও তো। আমার না ছায়ারাজ্য দেখার খুব শখ। কিন্তু সেখানে নাকি আমাদের পরীরা যেতে পারে না।’
‘তাহলে তুমি যাবে কিভাবে?’
‘তোমার সাথে যাবো। মানুষের সাথে গেলে আর কোনো বাধা নেই।’
‘ঠিক আছে, আমি গেলে তোমাকে নিয়ে যাবো। এখন তুমি কোথায় নিয়ে যাবে সেদিকে চলো।’
‘সেদিকেই তো যাচ্ছি। আমাদের পরীরাজ্য নজীবীনে যাচ্ছি আমরা।’
দু’পাশে সারি সারি গাছপালার ভিতর দিয়ে উজ্জ্বল সূর্যালোকে হেঁটে চলল ওরা। কখনো তিতলী পরী আগে, কখনো পাশাপাশি। রিয়াজের আগে হাঁটার উপায় নেই। সে তো আর পরী রাজ্য চেনে না।
(চলবে)