আটচল্লিশ.
তবে ছায়ারাজ্যে যেতে হলে হয়তো তাকেই আগে হাঁটতে হতো। হয়তো কোন পথে যেতে হবে ঠিকই চিনে নিতে পারত।
হাঁটতে বেশ লাগছে রিয়াজের। সূর্য উজ্জ্বল আলো ছড়াচ্ছে। পাখিরা গান গাইছে মিষ্টি সুরে। পাশে পরীর মতো সুন্দর একটা পরী।
কয়েক ঘণ্টা একটানা হেঁটে চলল ওরা। টুকটাক কথাবার্তা বলতে লাগল দু’জনে। তিতলী পরী রিয়াজের কাছ থেকে রিয়াজের বাবা, মা, বোনের কথা জানতে লাগল। রিয়াজ কৌতূহল বশে পরীরাজ্য নজীবীনের কথা জানতে চাইল। সেখানে কেমন কী এসব।
তিতলী পরী মিষ্টি হেসে বলল, ‘সেখানে গেলেই সব কিছু দেখতে পাবে। আগেই বলে দিলে মজা নষ্ট হয়ে যাবে।’
আরো কিছুক্ষণ হাঁটার পর রিয়াজের গতি ধীর হয়ে যেতে থাকে। বনের পথ ছেড়ে তারা এখন ছোট ছোট পাহাড়ের মধ্য দিয়ে এঁকেবেঁকে চলছে।
রিয়াজ একটু পিছিয়ে পড়ে। তিতলী পরী দাঁড়িয়ে যায়। চেঁচায় ‘কি হলো? পিছিয়ে পড়লে কেন? কিছু দেখতে পেয়েছ নাকি?’
রিয়াজ দুর্বল কণ্ঠে বলল, ‘না। আসলে আর চলতে পারছি না আমি। একটানা হেঁটে ক্লান্ত হয়ে পড়েছি। একটু জিরিয়ে নেয়া যাক।’
সামনে পাহাড়ের ফাঁকের স্বচ্ছ জলের সরু ঝরনা দেখে সেখানে বসে পড়ল রিয়াজ। রিয়াজ ঝরনার জলে হাতমুখ ধুয়ে নিলো। আঁজলা ভরে জল পান করল।
তিতলী পরী আগুনের তৈরি বলে ঝরনার জলের ধারে কাছেও গেল না। দূরে থাকল।
পানি খেয়ে তিতলী পরীর কাছে ফিরে আসতেই পরী বলল, ‘মানুষ বড় দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়ে।’
‘তোমরা ক্লান্ত হও না?’
‘হই। তবে তোমাদের মতো অত তাড়াতাড়ি না। তোমার জেনে রাখা ভালো যে মাটির চেয়ে আগুনের শক্তি বেশি।’ (চলবে)
