(গত দিনের পর)
বিনিময়ে আমার এই লাল মোরগটি দিয়ে দেবো তোমায়।
বৃদ্ধের কথা শুনে গায়ক লোকটি মৃদু হাসলেন। বললেন, গান গাইতে হলে কণ্ঠে সুর থাকতে হয়, হে মিমি হেলে হেলে। আমার কণ্ঠের সুর তো আর তোমাকে দিয়ে দিতে পারি না। সুর-লহরীর তো কোনো কিছুর সাথে বিনিময় হয় না।
মিমি বললেন, তা হয় না। কিন্তু তুমি তো চেষ্টা করলে আমাকে শিখিয়ে দিতে পারো? বিনিময়ে তোমাকে এই লাল মোরগটি দিয়ে দেই? এ কথা শুনে গায়ক লোকটি রাজি হয়ে গেলেন। ভাবলেন, গান শেখার যখন এতই আগ্রহ তার। দেখি চেষ্টা করে বৃদ্ধকে শিখিয়ে দেয়া যায় কি না। তিনি তখন মিমিকে নিয়ে বসলেন বটবৃক্ষের তলে। অনেক, অনেক চেষ্টা করে বৃদ্ধের ধেড়ে গলায় তুলে দিলেন গানের সুমিষ্ট সুর ও ছন্দ।
গান শেখা শেষ হলে মিমি তার মোরগটি দিয়ে দিলেন গায়ককে। এরপর শূন্যহাতে গান গাইতে গাইতে মিমি হেলে হেলে বাড়ির পথে রওনা হলেন। তিনি হাঁটছেন আর গান গাইছেন। এমন সুন্দর গান। কী মিষ্টি তার সুর লহরী। আকাশে বাতাসে ছড়িয়ে যাচ্ছে সেই সুর। মিমি ভাবছেন, বড় বাণিজ্যটাই আজ আমি করতে পেরেছি। কণ্ঠে সুর তুলে নিতে পেরেছি। আজ পৃথিবীর সবচেয়ে সুখী মানুষটিই আমি। আহ্, এমন সুন্দর দিন, এমন সুমিষ্ট সুর। এমন গান গাইতে পারা কতই না আনন্দের। মিমি ভাবছেন, তার চেয়ে সুখী আর কে আছে ভুটানে !
(শেষ)