বাষট্টি.
আমি তো এখানে চিরদিন থাকব না। আর নিজের দেশে গিয়ে তো আমাকে আবার চাকরের কাজ করতে হবে। চাকরের কাজে পড়াশোনা লাগে না।
মা পরী হা হা করে বলল, সে কী কথা! তুমি অবশ্যই স্কুলে যাবে। কখন কোথায় কিভাবে কতদিন থাকো, সেটা কোনো বিষয় নয়। বিষয় হচ্ছে যখন যেখানে যেভাবে যে কয়দিনই থাকো না কেন, কিছু না কিছু শিখতে থাকো। শেখার জন্য স্থান কাল পাত্র লাগে না।
রিয়াজ কী বলবে ভেবে না পেয়ে পানির পাত্র থেকে সাবধানে পানি ঢালতে ঢালতে বলল, ঠিক আছে তুমি যেটা ভালো মনে করো।’
খেয়ে দেয়ে নিজের কামরায় এসে ধবধবে নরম বিছানায় গড়িয়ে আয়েশ করতেই রিয়াজ ঘুমিয়ে গেল। তার ঘুম ভাঙে ভরা সন্ধ্যায়। আকাশের পশ্চিম কোণের লালিমা মুছে যেতে থাকে ধীরে ধীরে।
রিয়াজ রুম থেকে বেরিয়ে পায়ে পায়ে হেঁটে বাইরে আসে। তিতলী পরীর মাকে দেখার পর থেকে তার মায়ের জন্য মন খারাপ হতে থাকে। সে ভাবে, পরীরা তো কত কিছুই পারে। তার মাকে খুঁজে এনে দিতে পারে না! রিয়াজকে বাইরে একাকী হতভম্বের মতো দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে মা পরী ঘর থেকে বেরিয়ে তার কাছে আসে। মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে দিতে বলে, কি বাড়ির জন্য মন কেমন করছে?
রিয়াজ দুদিকে মাথা নেড়ে বলে ‘বাড়ির জন্য না। মায়ের জন্য মন খারাপ লাগছে। তারপর সে তার মায়ের পাগল হয়ে হারিয়ে যাওয়ার কথা আদ্যোপান্ত বলে। গায়ের লোকেরা যে বলাবলি করত, তার মাকে কোনো পরী উড়িয়ে নিয়ে গেছে সে কথাও সে বলতে ভোলে না। তারপর ইতস্তত করে বলে, আমার মা কি তোমাদের এখানে আছে? আমাকে আমার মায়ের সাথে দেখা করতে দেবে না?
(চলবে)
