চৌষট্টি.
রিয়াজ মাথা নিচু করে চুপিসারে বলল, ‘আমি আমার মাকে খুঁজতে যেতে চাই। কহর নাগম রাজ্যে যেতে চাই।
মা পরী বলে, পথ না দেখিয়ে দিলে তুমি কখনো সেখানে যেতে পারবে না। আর যদিওবা যেতে পারো তাহলে সেখানে যাওয়া মাত্র তোমাকে দুষ্ট পরীরা বন্দী করে ফেলবে। তারপর হয়তো ওখানে রেখে দেবে চিরজীবনের জন্য। ওই দুষ্ট পরীরাজ্যে একটা খারাপ ঘর আছে। ওটিকে বলে চিরজীবী ঘর। আসলে ওটা হলো মানুষকে বন্দী করে তাকে একই অবস্থায় রেখে দেয়ার ঘর। চৌকোণা খুপরির মতো ঘরে মাথা থেকে পায়ের মাপে ফ্রেমে শুইয়ে সবসময় একই রকম রাখার ধান্ধাবাজি ওটা। কিন্তু মানুষ সবসময় একই বয়সে থাকতে চায় না। তাকে বয়সের সব স্টেজ ধীরে ধীরে পার করতে হয়।
রিয়াজ বলল, আমার মা হয়তো ওদের পাল্লায় পড়ে ওঘরেই আছে।
মা পরী বলে, সেটা হতে পারে। আবার এমনও হতে পারে তোমার মা হয়তো তোমাদের দেশে পাগলীর বেশে ঘুরে বেড়াচ্ছে। তোমরা ভালো মতো খোঁজনি বলে তোমাদের নজর এড়িয়ে গেছে।
তাহলে আমি এখন কী করব?
মা পরী বলে, এখানে থেকে এখানকার রীতিনীতি কায়দা কানুন কিছু শিখে নাও। তারপর যদি কহর নাগমে যেতে চাও তাহলে ওগুলো কাজে দেবে। আর এতদিন যখন ধৈর্য ধরে ছিলে তখন আরো কিছু দিন ধৈর্য ধরো। দেখি আমরা কোনো ভাবে খোঁজ নিয়ে জানতে পারি কিনা যে তোমার মা কহর নাগমে আছে কিনা। তিতলীর কাকা আসলান দাস্তান পররাষ্ট্র দিকটা দেখে। যদি থাকে তাহলে আমাদের রাজ্য থেকে ওদের কিছু সুবিধে দিয়ে দ্বিপাক্ষিক চুক্তি করে তোমার মাকে ছাড়িয়ে আনা যাবে। (চলবে)
