ছেষট্টি.
রিয়াজ বলল, আমার মাকে দেখেছ?
তিতলী অবাক গলায় বলল, তোমার মাকে আমি চিনি নাকি? তবে হ্যাঁ, একটা কাজে গিয়েছিলাম। তুমি যে বাসায় থাকতে সেখানে গিয়েছিলাম। তুমি নেই দেখে ওদের কী অবস্থা হয় দেখতে।
কী দেখলে?
তিতলী পরী বলে, বেশ স্বাভাবিকই আছে ওরা। একজন জলজ্যান্ত মানুষ যে উধাও হয়ে গেছে তাতে ওদের কোনো ভাবান্তর নেই। শুধু তোমার মতো এত ভালো কাজের লোক আর এই মুহূর্তে কোথায় খুঁজে পাবে সেটাই হয়েছে ওদের মাথাব্যথা। তোমাকে নিয়ে কোনো দুশ্চিন্তা নেই। দুশ্চিন্তা তোমার কাজ নিয়ে। টিভির নব নষ্ট করেছ বলে বকাবকি করেছে। তারপর ঘরবাড়ি তন্নতন্ন করে যখন নিশ্চিত হয়েছে যে তুমি টিভির নব নষ্ট করা ছাড়া আর কোনো ক্ষতিই করোনি তখন ধারণা করেছে টিভির নব নষ্ট করায় বকাবকি শুনতে হবে ভয়ে পালিয়ে গেছ। অন্য কোথাও কাজ না পেলে পেটে টান পড়লে সুড়সুড় করে ঠিকই চলে আসবে দু-চার দিন পর।
তিতলীর কথা শুনে রিয়াজের চোখজোড়া একশ ওয়াটের বালবের মতো জ¦লে ওঠে। হঠাৎ মগজে একটা বুদ্ধি খেলে যায়। তিতলী যদি তাকে নিয়ে আসতে পারে, তাহলে কি পারে না মামীর একমাত্র সন্তান চোখের মনি বাবুকে তুলে এখানে নিয়ে আসতে। তারপর তিতলী আবার গিয়ে দেখত বাবুকে হারিয়ে ওরা কতটুকু স্বাভাবিক থাকে।
রিয়াজ পোশাক পরা শেষে তিতলীর দিকে উজ্জ্বল চোখে বলে, তোমার সাথে আমার একটা জরুরি কথা আছে।
মা পরী আদুরে ধমক দেয়, এখন আর কোনো কথা নেই। সোজা চলো স্কুলে, দেরি হয়ে যাচ্ছে। পরীদের স্কুলে সময়ের এক সেকেন্ড হেরফের হয় না। (চলবে)
