সত্তর.

এতে করে পরবর্তী জীবনে পরনির্ভরশীলতা কমে। তবে সর্বক্ষণ সবকিছু পর্যবেক্ষণ ও তত্ত্বাবধানের জন্য ইউনিট ইউনিট করে একজন দক্ষ শিক্ষকের তত্ত্বাবধানে থাকতে হয়।
ওদের সবাইকে সবসময় কোনো না কোনো কাজে ব্যস্ত থাকতে হয়। যদিও সেই ব্যস্ততা ছেলেরা উপভোগ করে। প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময় বরাদ্দ থাকে বিনোদনের জন্য। কাজের পরে বিনোদনটা ওরা খুব করে উপভোগ করে। ওদের সাবইকে সবকরম খেলাধুলাই করতে হয়। নানা কাজে ব্যস্ত থাকার দরুন প্রচুর শারীরিক ব্যায়ামের কাজ হয়ে যায়। তার পরও সবার জন্যই শারীরিক ব্যায়ামের ব্যবস্থা আছে।
প্রথম দিনেই স্কুল খুব ভালো লেগে যায় রিয়াজের। সত্যি বলতে কী মায়ের জন্য একটু একটু মন কেমন না করলে আর ভিখারি বাবা ও ছোট্ট বোনটাকে মাঝে মাঝে দেখতে যেতে ইচ্ছে না করলে সে এই পরীরাজ্যেই থেকে যাওয়ার চিন্তাভাবনা করত। কিন্তু তা তো হওয়ার নয়। তাকে যে তার নিজের দেশে যেতেই হবে। যতই সুন্দর আর সুশৃঙ্খল হোক না কেন তা তো তার দেশ নয়। এখানে সে অতিথি মাত্র। যত বিশৃঙ্খল আর কষ্টই হোক নিজের দেশ সব সময়ই সুন্দর।
স্কুল থেকে আনন্দিত মনে বাড়ি ফিরে প্রথম দিনের স্কুল অভিজ্ঞতা তিতলীকে সে সাগ্রহে জানায়। কিন্তু এসব তো তিতলীর জানাই। তবু সে খুশি খুশি ভাব ধরে রেখে রিয়াজের খুশি উপভোগ করে।
রিয়াজের কথা শেষ হলে তিতলী পরী তার গত রাতের পৃথিবী ভ্রমণের কথা বলতে থাকে। পৃথিবীর কত নানান জায়গায় যে সে একরাতে গিয়ে কত কী যে দেখে এসেছে তা বলতে থাকে। (চলবে)