আটাশি.
রাজ্যজুড়ে চলা বিশৃঙ্খলা রাস্তা দেখেই বোঝা যায়। রিয়াজ নিজেকে কিছুটা গোপন রেখে রাস্তাঘাটে ইতস্তত হেঁটে চলা পরীদের গা এড়িয়ে চলতে থাকে। এখানে কোনো নিয়মনীতি নেই বলেই বোধ হয় সবাই খুব ব্যস্ত। তার দিকে তাকানোর ফুরসত কারো নেই। তাতে তার ভালোই হয়েছে। এত তাড়াতাড়ি ধরা পড়ে যাচ্ছে না।
এখানে রাস্তাঘাটে পরীসংখ্যা বেশি। ছোট ছোট বাচ্চা পরীরা স্কুলে না গিয়ে রাস্তায় রাস্তার পাশের পরিত্যক্ত বাগানে ছুটোছুটি করে খেলা করছে। পরীরাজ্যের পোশাক রিয়াজের পরনে থাকায় সে যে পরী নয় মানুষ এটা সহজে কেউ ধরতে পারছে না। আসলে সব পরীরা নিজেরা নিজের ধান্ধায় এত ব্যস্ত যে ওর দিকে ভালো মতো কেউ তাকাচ্ছেই না।
ডাইনি বুড়ির কথামত কেউ ধরতেই তো আসছে না, আপ্যায়ন দূরের কথা। রিয়াজের খিদে পেয়েছে। নিজের খাবারের থলেটা ফেলে আসায় এখন খিদে পেটেই হাঁটতে হবে যদি না কেউ তাকে নিয়ে খাওয়ায়। হাতের সম্বল ফেলে আসা ভুল হয়েছে।
হাঁটতে হাঁটতে রিয়াজ রাস্তার ধারের একটা ফল বাগানের কাছে চলে আসে। বাগানের বড় বড় গাছজুড়ে আপেলের মতো হাজার হাজার ফল ঝুলে আছে। কিছু দুষ্ট ছেলে পরী রাস্তার পাশের পাথর তুলে ঢিল দিয়ে গাছের সেই সুন্দর আপেলের মতো ফল পাড়ছে। কিন্তু কেউ আগ্রহ করে কুড়িয়ে নিচ্চে না, খাওয়া তো দূরের কথা। যেন ফল পাড়াতেই তাদের আনন্দ। পেটে প্রচণ্ড খিদে পাওয়ায় রাস্তার ধার থেকে নুড়ি পাথর কুড়িয়ে সমবয়সী ছেলেগুলোর সাথে কথা বলে ভাব করতে করতে রিয়াজ ঢিল দিয়ে কয়েকটা ফল পাড়ে।
ছেলেরা ওকে পাত্তা দেয় না। কিন্তু সে যখন তার ঢিলে পড়া একটা ফল তুলে নিয়ে হাত দিয়ে মুছে কামড়ে খেতে থাকে তখন সব দুষ্ট পরীর বাচ্চারা ঢিল ছোড়া ভুলে অবাক বিস্ময়ে তার দিকে তাকিয়ে থাকে।
(চলবে)
আটাশি.রাজ্যজুড়ে চলা বিশৃঙ্খলা রাস্তা দেখেই বোঝা যায়। রিয়াজ নিজেকে কিছুটা গোপন রেখে রাস্তাঘাটে ইতস্তত হেঁটে চলা পরীদের গা এড়িয়ে চলতে থাকে। এখানে কোনো নিয়মনীতি নেই...
