ঊননব্বই.

তারপর সব বাচ্চাই এক সাথে কল কল শব্দ তুলে আরে এ আমাদের মতো পরী নয়। ফল খাচ্ছে। দেখ পিছনে আমাদের মতো পাখাও নেই। নিশ্চয় মানুষ। চল বড়দের খবর দিতে যাই।
বলেই তারা আর দেরি করে না। পড়িমড়ি করে ছোটে কে আগে গিয়ে খবর দিয়ে নাম কামাবে সেই প্রতিযোগিতায় মত্ত হয়ে ওঠে।
রিয়াজ তার ভুলটা বুঝতে পারে। পরীরা গাছ থেকে পাড়া ডাসা ফল খায় না। তারা আগুনের ফল খায়। ওদের সামনে ফল খাওয়াটা বোকামি হয়েছে। কিন্তু ওরা সবাই খবর দেয়ার ধান্ধায় এত ব্যস্ত হয়ে ছুটে গেছে যে তাকে পাহারা দেয়ার জন্য কেউ নেই।
রিয়াজ আরো একটা ফল সাবাড় করে তার রুপালি জুতোয় মচমচিয়ে দ্রুতগতিতে সামনের দিকে এগিয়ে যাবার কথা ভাবে। যদিও জানে খুব একটা লাভ হবে না। একজন মানুষের এখানে আসার খবর রটে যাবে এবং পরীরাজ্যেও পরীরা তাকে খুব সহজেই খুঁজে বের করতে পারবে। তবুও যতক্ষণ একা একা ঘোরাঘুরি করে মাকে খোঁজা যায় ততক্ষণই সেটাই করা উচিত।
রিয়াজ একটা পরীর মার্কেটে ঢুকে পড়ে। এখানে বাজার জমজমাট। নজীবীন রাজ্যের মতো বাজার নয় এখানে যে সবকিছু থরে থরে সাজানো থাকবে, ক্রেতা কিনে নিয়ে ন্যায্যমূল্যে নির্দিষ্ট বক্সে ফেলে চলে আসবে। এখানকার বাজারে ক্রেতা বিক্রেতা দুইই উপস্থিত। দরকষাকষির বাজার। উভয় উভয়কে ঠকানোর জন্য প্রাণান্তকর প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। ঠিক পৃথিবীর মতোই। সে কারণেই তার দিকে কেউ ফিরেও দেখছে না।
রিয়াজ বেশ কিছুক্ষণ এদিক ওদিক ঘোরাফেরা করে বাজারের বাইরে আসতেই দেখে বেশ কিছু মধ্যবয়স্ক পরী কেমন অদ্ভুতভাবে যেন তার দিকে তাকাচ্ছে। তার চার পাশে ঘুরে ঘুরে দেখে।
(চলবে)