তিরানব্বই.
জানি। কারণ মানুষকে রাখার জন্য এই প্রাসাদের এই ঘরটাই ব্যবহার করে। আমার আগে আরেকজন এখানে ছিল। সে অভিমান করে না খেতে পেয়ে মরে গেলে আমাকে ধরে আনে।
কিন্তু ওরা যে বলল আমার মা এখানে আছে।
ওরা মিথ্যে বলেছে। ওরা পরী হলেও খারাপ পরী। মানুষের মধ্যে যেমন ভালো খারাপ আছে, ওদের মধ্যেও আছে। তবে এখানের সবাই খারাপ। এরা কখনো সত্যি কথা বলে না। আমাকে নানান কথা বলে ভুলিয়ে ভালিয়ে এখানে এনে এখন আর যেতে দিচ্ছে না। কোনো কথাও রাখেনি।
ছেলেটা হয়তো আরও কিছু বলত। কিন্তু তার আগেই ক্যাচক্যাচ শব্দে দরজাটা খুলে যাওয়ায় চুপ করে গেল।
রিয়াজ পিছন ফিরে তাকিয়ে দেখে দু’জন পরী ঢুকেছে। একজন দর্জি গোছের পরী একটা মাপার ফিতে নিয়ে তার পাশে এসে তার নানান রকম মাপজোখ নিল। তারপর কোনো কথা না বলে দরজা বন্ধ করে দিয়ে বেরিয়ে গেল।
রিয়াজ আমুদে গলায় বলল, ব্যাপার কী? আমার জামাকাপড় বানিয়ে দেবে নাকি? তাহলে তো বেশ হয়।
ছেলেটা রিয়াজের দিকে মাথা নেড়ে বলল, উহু তা নয়। ওরা তোমাকে এখানে রেখে দেয়ার ব্যবস্থা করছে।
মানে?
মানে হলো আমি যখন প্রথম এখানে আসি তখনো আমার অমন মাপজোখ নিয়েছিল। তার পরিণতি ওই দেখো। বলে ছেলেটা আঙুল তুলে খাটের এক পাশের একটা কফিনের মতো চারকোণা কাঠের বাক্স দেখায়।
রিয়াজ পায়ে পায়ে হেঁটে হেঁটে বাক্সের কাছে যায়। কফিনের মতো দেখতে চারকোণা কাঠের বাক্স। আঁটোসাঁটো হয়ে ছোটখাটো একজন মানুষ কোনো মতে থাকতে পারবে।
রিয়াজ জিজ্ঞাসু চোখে ছেলেটার দিকে তাকায়। (চলবে)
তিরানব্বই.জানি। কারণ মানুষকে রাখার জন্য এই প্রাসাদের এই ঘরটাই ব্যবহার করে। আমার আগে আরেকজন এখানে ছিল। সে অভিমান করে না খেতে পেয়ে মরে গেলে আমাকে...
