ছিয়ানব্বই.
সমুদ্র পেরিয়ে একদল ছায়াদের দ্রুত দ্বীপে ঢুকে পড়তে দেখে রিয়াজের চোখ থমকে দাঁড়ায়। তার কেন জানি মনে হতে থাকে এর মধ্যেই সে কিশোরী ছায়া আছে।
ছায়ারা সব সমুদ্রসৈকতে নামতেই রিয়াজের চোখ কিশোরী ছায়াকে খুঁজে ফেরে। ছোটদের ছায়ার মধ্যে সে পেয়ে যায় তাকে।
কিশোরী ছায়া ঠিক বুঝে উঠতে পারে না, কে তাকে ডাকছে। কিন্তু তার কেমন জানি মনে হয়। তার মনে পড়ে রিয়াজের কথা। সে এক পাক ঘুরেই তার মায়ের কাছে গিয়ে জানায় তার অনুভূতির কথা।
রিয়াজের চোখ এবার মা ছায়াকেও দেখতে পায়। মা ছায়া তাকে এই দেখতে পাওয়ার শক্তি দিয়েছিল বলে রিয়াজকে বুঝতে পারে।
রিয়াজ অনুভূতির মাধ্যমে তার বন্দিদশার কথা জানায়। মা ছায়া ব্যাপারটা বুঝতে পেরে অন্য বয়োজ্যেষ্ঠ ছায়াদের জানায় রিয়াজের কথা।
বয়স্করা পুরো ছায়ারাজ্যে মুহূর্তের মধ্যে খবর পাঠায়। বাইরে যারা গিয়েছিল তাদেরও ফিরে আসতে বলে। সবাই ফিরে এলে খুঁজে বের করতে বলে ছায়াহীন রিয়াজের ছায়াটাকে।
ছায়ারাজ্যে অনেক খুঁজে রিয়াজের ছায়াটাকে পাওয়া যায়। সবচেয়ে নিষ্প্রভ সবচেয়ে অনুজ্জ্বল সবচেয়ে আবছায়া ছায়া। রিয়াজ এখনও শরীরধারী হওয়ায় তার ছায়া এখনো অন্য ছায়াদের মতো উজ্জ্বল হয়ে ওঠেনি।
রিয়াজ ছায়াদের মধ্যে হঠাৎ তার ছায়া দেখে খুব অবাক হয়। অবিকল তার মতোই দেখতে। শুধু সূর্যের আলো দীর্ঘ হয়ে পড়ায় ছায়াটা বেশ লম্বা এবং অস্পষ্ট লাগছে। তার পরেও সে বুঝতে পারে এটাই তার ছায়া। তাকে যে চেনে তারাও একবার দেখলেই বুঝতে পারবে।
ছায়াদের মধ্যে কী যেন শলাপরামর্শ হয়। ছায়াদের সব কর্মকাণ্ডই দ্রুত।
(চলবে)