একশ’ সাত
রিয়াজকে জেগে উঠতে দেখে কাকা গাছের মোটা ডাল থেকে নিচে নেমে এলো। রিয়াজের সামনে এসে দাঁড়িয়ে ঠিক দুনিয়ার ঢঙে বলল, মিষ্টার রিয়াজ, তুমি ঘুমাচ্ছিলে বলে আর ডেকে তুলিনি।
রিয়াজ বলল, আমি ঘুমাচ্ছিলাম না ঝিমুচ্ছিলাম। ও ঘুমাচ্ছে। বেলালের দিকে দেখিয়ে দিলো।
ওই হলো। একই কথা। আমি আসলে তোমাকেই খুঁজছি। খুঁজতে খুঁজতে এখানে এসে তোমাকে পাই। তিতলী তোমার জন্য আমাকে একটা অনুরোধ করেছিল। তিতলীর সেই অনুরোধ রাখতে গিয়ে এত দেরি হয়ে গেছে।
কী অনুরোধ?
একটা ছেলেকে খুঁজে তুলে আনতে বলেছিল। ও বাড়িটা কোথায় ঠিকঠাক ভাবে জানিয়ে দিয়েছিল। তাও ঠিক হয়েছে কিনা জানি না। দেখো তো এই ছেলেটাকে চিনতে পার কিনা। একেই তো আনতে বলেছিলে তাই না? কাকা পিঠের থেকে অচেতন একটা ছেলেকে নামিয়ে দিলো।
রিয়াজ দেখেই চমকে উঠল।
বাবু!
মামীর একমাত্র ছেলে!
কাকা, করেছেন কী?
কেন, তুমিই না তোমার মামীকে শিক্ষা দেয়ার জন্য ওকে এখানে নিয়ে আসতে বলেছিলে? এখন ওরকম করছ কেন? তোমাদের মানুষদের ধরন-ধারণ আমি বুঝে উঠতে পারি না। কখন কী বলো আর কখন কী করো!
না মানে কাকা, একসময় বলেছিলাম। কিন্তু এখন আমি নিজেই পৃথিবীতে ফিরে যাওয়ার জন্য ব্যস্ত। ওকে নিয়ে কী করব?
তার আমি কী জানি? কাকার কণ্ঠে বিরক্তি। ওকে জাগিয়ে তোমাদের কাছে রেখে যাচ্ছি। তোমার যা ইচ্ছে তাই করো। (চলবে)