টমেটোর কথা বলছি। তোমরা অনেকেই টমেটো খেতে ভালোবাসো, তাই না? এটি শীতকালীন ফল এবং সবজি। আজকাল অবশ্য সারা বছরই পাওয়া যায়। পুষ্টিকর ও সুস্বাদু এ সবজির ঔষধি গুণও রয়েছে। দৈনিক আহারে টম্যাটো থাকা স্বাস্থ্যের জন্য খুবই ভালো।
প্রতিদিন খাবারের সাথে একটি করে টমেটো খেলে ওজন বাড়ে। দুপুরের আহারের আগে এবং রাতে শোয়ার আগে একটি করে পাকা টমেটো খোসা-বীজসহ কয়েক দিন নিয়মিত খেলে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর হয়। ফ্যাকাসে চেহারার কেউ নিয়মিত পাকা টমেটো খেলে লাবণ্য বাড়ে। নারকেল তেলের সাথে টমেটোর রস মিশিয়ে মাথার চুলে লাগালে খুশকিতে উপকার পাওয়া যায়। পাকা টমেটোর রসে মধু মিশিয়ে খেলে রক্তপিত্ত ও রক্তের দোষ ভালো হয়। শরীরের চুলকানি দূর করতেও টমেটোর ব্যবহার রয়েছে। এজন্য এক কাপ বিশুদ্ধ নারকেল তেলের সাথে আধা কাপ টমেটোর রস মিশিয়ে শরীরে মালিশ করতে হয় এবং কিছুক্ষণ পর হালকা গরম পানিতে গোসল করতে হয়। অর্জুনগাছের ছাল ও চিনি টমেটোর রসের সাথে মিশিয়ে অবলেহ (এক ধরনের জ্যাম) তৈরি করা যায়। এ অবলেহ নিয়মিত খেলে বুকের ব্যথায় উপকার পাওয়া যায়। পুষ্টিবিজ্ঞানীদের মতে, প্রতি ১০০ গ্রাম খাবার উপযোগী টম্যাটোতে রয়েছে ৩ দশমিক ৬ গ্রাম কার্বোহাইড্রেট, ১ দশমিক ৯ গ্রাম প্রোটিন, ৩২০ আইইউ ভিটামিন ‘এ’, শূন্য দশমিক ১ গ্রাম ফ্যাট, শূন্য দশমিক ৭ গ্রাম আঁশ, দশমিক শূন্য ৭ মিলিগ্রাম থায়ামিন, দশমিক শূন্য ১ মিলিগ্রাম রাইবোফ্ল্যাভিন, ৩১ মিলিগ্রাম ভিটামিন ‘সি’, ১ দশমিক ৮ মিলিগ্রাম লোহা, ২০ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম, ৩৬ মিলিগ্রাম ফসফরাস, শূন্য দশমিক ৪ মিলিগ্রাম নিকোটিনিক অ্যাসিড, ১১৪ মিলিগ্রাম পটাসিয়াম ও ৩৬ মিলিগ্রাম ফসফরাস।
