অনেক অনেক যুগ আগের কথা। তখনকার যুগে জিন-পরী, দৈত্য-দানব এবং রাক্ষস-খোক্ষসরা ঘুরে বেড়াত মানুষের আশপাশে। তারা মানুষের সাথে কথা বলত। মানুষের কাজে-কর্মে অংশ নিত। সুযোগ পেলে মানুষের ক্ষতিও করে দিত। ওঁৎ পেতে থাকত সারাক্ষণ, কিভাবে মানুষের ক্ষতি করা যায়। সেই যুগে সুদূর আইসল্যান্ডে একটি সুন্দর ও শান্তির রাজ্য ছিল। রাজ্যের রাজা ছিল বেশ দয়ালু ও পরোপকারী।
রাজার ছিল এক রানী। তাদের ঘরে ছিল এক রাজকুমার ও এক রাজকুমারী। রাজকুমারের নাম প্রিন্স আসমান্ড আর রাজকুমারীর নাম ছিল প্রিন্সেস সিগনি। কিশোর আসমান্ড ছিল অ্যাডভেঞ্চারপ্রিয়। প্রাসাদের পাশেই ছিল এক গহিন জঙ্গল। ‘চারুবন’ নামের সেই গহিন জঙ্গলে সারাদিন শিকার করে বেড়াত রাজকুমার। বনের প্রতিটি বৃক্ষ-লতা-পাতার সাথে ছিল তার ভাব। অন্য দিকে কিশোরী সিগনি ছিল অপরূপা সুন্দরী। সারা দুনিয়ায় তার রূপের কথা ছড়িয়ে ছিল। সিগনি ঘরকন্যার কাজেও ছিল নিপুণা। সুন্দর সুন্দর হাতের কাজ ও সুঁচিকর্মও জানত সে। নিপুণ হাতে সেলাই করে সে সুন্দর সুন্দর পোশাক তৈরি করত।
রাজা এবং রানীর অতি আদরের ছিল প্রিন্স আসমান্ড ও প্রিন্সেস সিগনি। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস। সেই রাজ্যের সাথে পার্শ্ববর্তী অন্য আরেকটি রাজ্যের রক্তক্ষয়ী এক যুদ্ধ বেধে যায়। যুদ্ধ পরিচালনার জন্য রাজাকে চলে যেতে হয় যুদ্ধের ময়দানে। আর তখনি রানী পড়েন এক কঠিন বিমারে। কিছু দিন অসুখে ভুগে রানীও মারা যান। রাজপ্রাসাদ শূন্য হয়ে যায়। (চলবে)