জানো,এখন জমিদারি নেই, কিন্তু অনেক জমিদারবাড়ি টিকে আছে কালের সাক্ষী হয়ে। এগুলোরই একটি ময়মনসিংহ জেলার মুক্তাগাছার জমিদারবাড়ি। এটি এখনো পর্যটকদের বেশ আকর্ষণ করে। জানা যায়, বগুড়ানিবাসী জনৈক শ্রীকান্ত আচার্য ১৭২৫ মতান্তরে ১৭২৭ সালে মুক্তাগাছা তথা প্রাচীন আলেপশাহী পরগনার জমিদারি লাভ করেন। পর্যায়ক্রমে তার বংশধর হরেরাম চৌধুরী, জগৎকিশোর আচার্য চৌধুরী, শিবরাম আচার্য চৌধুরী প্রমুখ জমিদার ছিলেন। শিবরাম ছিলেন সেই বংশের সর্বশেষ জমিদার। তিনি নিঃসন্তান থাকায় তার দত্তক পুত্র সূর্যকান্ত এবং এরপর সূর্যকান্তের দত্তক পুত্র শশীকান্ত জমিদার হন। ময়মনসিংহের মনোরম ভবন বর্তমান টিচার্স ট্রেনিং কলেজটি ছিল শশীকান্তের আলেক্সান্দ্রা ক্যাসেল, দৃষ্টিনন্দন ‘শশীলজ’ ও ‘রাজরাজেশ্বরী ওয়াটার ট্যাংক’ ইত্যাদিও ছিল মুক্তাগাছার জমিদারদের তৈরি।
মুক্তাগাছা জমিদারবাড়ির ভবনগুলো গোথিক ও ভিক্টোরিয়া অ্যাংলো-স্যাক্সন রীতিতে নির্মিত। ইন্দো-ইউরোপীয় ঘরানার এসব ভবনের কোনোটার সাথেই কোনোটার বিশেষ মিল নেই। মূল জমিদারের বাসগৃহ আবার ফেরোসিমেন্টের শিট দিয়ে তৈরি দেয়াল ও টিনের চালাসহ দোতলা বাংলোর মতো, দেখতে অনেকটা আদিবাসীদের ঘরের মতো। জমিদারবাড়ির প্রবেশপথ তথা তোরণটিই সবচেয়ে আকর্ষণীয় ও বৃহৎ। তোরণের ওপর গম্বুজ রয়েছে, আছে পাহারাদারদের ঘরও। তোরণ পেরিয়ে ভেতরে গেলে বাইরের মহল, এরপর অন্দরমহল। মূল অন্দরমহলে প্রবেশের আগেই পড়ে কারুকার্যমণ্ডিত রাজরাজেশ্বরী মন্দির ও নাট্যশালা। সে যুগে এই নাট্যশালায় ছিল ঘূর্ণায়মান মঞ্চ। জমিদারবাড়ির সব স্থাপনাই এখন ধ্বংসের মুখে। দেখার পর অনুমান করে অনেক স্থাপনার গড়ন অনুমান করতে হয়। তবু এ জমিদারবাড়ি আকর্ষণীয়।