অনেকের ধারণা, সাগরের পানিতে সাঁতরে বেড়ানো তিমিরা হলো একধরনের মাছ। কিন্তু তিমি কোনো মাছ নয়,
স্তন্যপায়ী প্রাণী। বলতে পারো তোমার-আমার মতো এক ধরনের জীব। অত্যন্ত সুন্দর আর বুদ্ধিমান জীব। মাছের মতো ওরা ফুলকা দিয়ে নিঃশ্বাস নেয় না, আবার ডিমও পারে না। শ্বাস-প্রশ্বাস চলে আমাদেরই মতো ফুসফুস দিয়ে। আর শ্বাসও নেয় আমাদের মতো বাতাস থেকে। অথচ ওরা থাকে সাগরের পানিতে। আরো অনেক আশ্চর্যজনক মিল আছে আমাদের সাথে ওদের। আমাদের যেমন চুল আছে তেমনি ওদেরও চুল গজায়, তবে তিমিরা বড় হলে ওগুলো আর তেমন দেখা যায় না। আমাদের মতো তিমিও উষ্ণ রক্তের প্রাণী। আমাদের হৃৎপি-ের মতো ওদেরও হৃৎপি-ে চারটি প্রকোষ্ঠ আছে। সবচেয়ে বড় কথা হলো, তিমি সরাসরি বাচ্চার জন্ম দেয় আর সেসব বাচ্চা মায়ের দুধ খেয়ে বড় হয়। জন্মের সময়ই নীল তিমির এক একটা বাচ্চার ওজন দাঁড়ায় প্রায় ২৭ টন আর দৈর্ঘ্যে প্রায় ২৭ ফুট।
তিমির দৌড় কত দূর?
অত বড় প্রাণী বলে ভেব না যে তিমিরা খুব আলসে, মোটেই চলাফেরা করতে পারে না। বরং উল্টোটা। কোনো কোনো তিমি কিন্তু অত বড় দেহ নিয়েও বেশ ভালো সাঁতার কাটতে পারে। কিলার তিমি আর শর্টফিন পাইলট তিমিরা হলো তিমি জগতের সবচেয়ে দ্রুততম তিমি। ওরা ঘণ্টায় প্রায় ৩০ কিলোমিটার বেগে সাঁতরাতে পারে। তিমিরা ওদের লেজের ওঠা-নামা দ্বারাই মূলত সাঁতার কাটে। আর মাছ সাঁতার কাটে লেজকে ডাইনে বামে ঘুরিয়ে।
ওভাবে সাঁতরাতে সাঁতরাতে কোনো কোনো সময় তিমিরা ওদের আবাস ছেড়ে অনেক দূরে চলে যায়। বিশেষ করে ঠাণ্ডা পানির স্রোত থেকে প্রায়ই তারা দূরের কোনো গরম পানির স্রোতের সন্ধানে সাঁতরাতে সাঁতরাতে চলে যায়। আর এ ক্ষেত্রে ধূসর তিমির কোনো জুড়ি নেই। বছরে ওরা সাগরে গড়ে প্রায় ১২ হাজার ৫০০ মাইল পথ ভ্রমণ করে।
অনেকের ধারণা, সাগরের পানিতে সাঁতরে বেড়ানো তিমিরা হলো একধরনের মাছ। কিন্তু তিমি কোনো মাছ নয়, স্তন্যপায়ী প্রাণী। বলতে পারো তোমার-আমার মতো এক ধরনের জীব। অত্যন্ত...
