অক্সিজেন ছাড়া এ পর্যন্ত মানুষ সাগরের নিচে ৬০ মিটারের বেশি নামতে পারেনি। তবে ডুবুরির পোশাক পরে অক্সিজেন নিয়ে মানুষ ১৬৫ মিটার পর্যন্ত গভীরে নামতে পেরেছে। ১৯৩০ সালে প্রাণিবিদ বিবি ও পূর্তবিদ বার্টন ব্যাথিসফিয়ার নামে একটি যন্ত্রে সাগরের গভীরে আধা মাইলের মতো নেমেছিলেন। সে-ই প্রথম গভীর সমুদ্রের নিচে এক বিচিত্র প্রাণী জগতের ছবি মানুষের কাছে উদঘাটিত হয়। তবে জাপানের আমা নামে মেয়ে ডুবুরিরা সাগরগর্ভে ঝিনুকের মধ্যে মুক্তোর সন্ধানে সাগরের প্রায় ৬০ মিটার গভীর পর্যন্ত বিনা অক্সিজেনেই নিয়মিত নেমে এই অসম সাহসী কাজ করে যাচ্ছে জীবিকার প্রয়োজনে। তবে এখন আর সাগরতলার সম্পদ ও বৈচিত্র্য দেখতে মানুষকে নামতে হয় না। ১৯৬৫ সালে হেলিবুট নামে এক রোবট সাবমেরিন তৈরি করা হয়; যার সাথে সংযুক্ত করা হয় আলো, ক্যামেরা ইত্যাদি। এখনো আমরা যেসব ছবি পাই সেগুলোও সেভাবে সংগ্রহ করা হয়।
সমুদ্রবিজ্ঞানের রূপকথার নায়ক হলো জ্যাকুয়াস কুন্ডো। সাগরের তলদেশে মাছের মতো সাঁতরানো উপযোগী পোশাক অ্যাকুয়া লাং উদ্ভাবন করেন তিনি এবং স্বচ্ছন্দে সমুদ্রের ৩০০ থেকে ৫০০ মিটার গভীরে পর্যবেক্ষণের জন্য তৈরি করেন ডাইভিং সসার। শুধু কি তাই? সাগরতলে প্রথম বসবাসের রেকর্ডও গড়েন তিনি। ১৯৬২ সালে ফ্রান্সের মার্সেইলিসের কাছে সমুদ্রের ৩৩ ফুট নিচে তিনি এক বসতি গড়ে সেখানে সাত দিন কাটান।
১৯৬০ সালের ২৩ জানুয়ারি ট্রিয়েস্ট নামে এক বিশেষ ধরনের সামুদ্রিক যানে চেপে জ্যাকুয়াস পিকার্ড ও নেভি লেফটেন্যান্ট ডোনাল্ড ওয়ালেস নামে দু’জন বিজ্ঞানী সাগরের সবচেয়ে গভীরতম অংশ মেরিয়ানাস ট্রেঞ্চে নেমে এক আশ্চর্যজনক রেকর্ড তৈরি করেন। তারা ১০ হাজার ৬১৫ ফুট নিচে পর্যন্ত নামতে সমর্থ হন। সাগরগর্ভের এ ফাটলটি প্রশান্ত মহাসাগরে ফিলিপিনস দ্বীপপুঞ্জের কাছে অবস্থিত। আশ্চর্যের বিষয়, সাগরের সেই অসীম অন্ধকারময় জগতের মধ্যেও তারা মাছের সন্ধান পেয়েছিলেন। সামুদ্রিক যানের পর্যবেক্ষণ কক্ষের স্বচ্ছ দেয়ালের ভেতর দিয়ে জোরালো সার্চ লাইট মেরে তারা দেখলেন, প্রায় ফুটখানেক লম্বা একটি মাছ ধীর গতিতে সাঁতরে চলেছে।