এগার.

রূপচর্চা করতে থাকা সুন্দরী বিবাহযোগ্য বড় বোন লাকি বারান্দা থেকে আমাকে হাত ইশারা করে ডাক দিলো।
আর আমি ভেতরে ঢুকে পড়লাম। লাকিদি নখে নেলপলিশ মাখছিল। আমাকে দেখে বলল ‘মাখবি?’
আমি দু’দিকে মাথা নাড়লাম।
‘ছোট্ট বাবু দেখতে এসেছিস? বাবু তো এখন ঘুমাচ্ছে। দেখা যাবে, ছোঁয়া যাবে না।’ লাকিদি খুব ঢঙ করে দু’দিকে মাথা দুলিয়ে বলল। শুনেছি লাকিদির বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে। পাখির মৃত্যু এবং ছোট্ট বাবু হওয়ার কারণে বিয়েটা আটকে আছে। এবার শীতে বিয়ে। এ জন্য লাকিদি সবসময় বাড়ির মধ্যে থাকে আর রূপচর্চা করে।
আমি মুখে কিছু বললাম না। পুকুরের দিক থেকে আঁখিদিকে আসতে দেখলাম। আঁখিদি আমার আপুর সাথে একসাথে এক ক্লাসে পড়ে। সে জন্য আমার সাথে একটু সহজ সম্পর্ক। আঁখিদি আমাকে দেখে এক গাল হেসে বলল, ‘কিরে, ওখানে দাঁড়িয়ে আছিস কেন? করমচা পাড়বি? পাকেনি এখনো। আয়, এ দিকে আয়।’
আমি আঁখিদির সাথে বাগানে করমচার গাছের দিকে এগোলাম। এমনিতে আমি মুখচোরা গোছের। কথাবার্তা কম বলি। তারপরে এরকম সব সুন্দরী মেয়েদের সামনে এলে আমার পেটে বোমা মারলেও কথা বের হতে চায় না। তবে আঁখিদি একটু অন্যরকম।
আমি বললাম, ‘কাঁচা হলেও হবে। খেতে পারব। আপুর জন্যও নেব।’
‘শেলি পাঠিয়েছে নাকি তোকে? কোন বই নিতে পাঠিয়েছে?’
‘না। এমনি এসেছি। করমচা নেব।’
(চলবে)