বারো.
আসলেই করমচা গাছে পাকা লালচে সাদা করমচা নেই। আর কিছু দিন পরে পাকবে। এখন যা আছে সবজেটে খয়েরি রঙের। আঁখিদি নিচের দিকে ডাল টেনে ধরে গোটা সাতেক পেড়ে আমার হাতে দিলো। করমচার বোঁটা থেকে সাদা কষ গড়িয়ে পড়ছে। আঁখিদি বলল, ‘ভালোভাবে ধরিস। কষ যেন জামায় না লাগে। দাগ পড়ে যাবে। উঠবে না।’
আমার হাফপ্যান্টের পকেটে সবসময় কিছু না কিছু থাকে। পকেট হাতড়ে একটা কাগজ পেলাম। তাতেই নিলাম করমচাগুলো। একটা কামড়ে মুখে দিয়ে কষ্টা টকে মুখ বিকৃত করে বললাম, ‘আঁখিদি, তোমাদের মারা যাওয়ার পরে কী হয়?’
আঁখিদি প্রথমে আমার প্রশ্নটা ঠিক বুঝতে পারল না। করমচার সাথে মরার কী সম্পর্ক! একটু অবাক চোখে শেষ বিকেলের সোনা সোনা আলোয় আমার দিকে তাকিয়ে বলল, ‘হঠাৎ মরার কথা উঠছে কেন? মরে গেলে স্বর্গ-নরকে যায়।’
আমি দু’দিকে মাথা নাড়লাম। ‘না, না, তা জানতে চাইনি।’ ব্যাপারটা কিভাবে গুছিয়ে বলব বুঝে উঠতে পারছিলাম না। ‘মানে মরে গেলে তোমরা কী করো? কবর দাও না পোড়াও?’
‘ও এই কথা।’ আঁখিদি বুঝতে পারল, ‘আমরা কবর দিই। তবে তোদের মতো ওই রকমভাবে না।’
‘তাহলে কিভাবে?’
‘কাঠের বাক্সের কফিনের মধ্যে লম্বা করে শোয়ায়ে সেটিকেই মাটি চাপা দিয়ে কবর দিই।’ হঠাৎ যেন আঁখিদির খেয়াল হলো, ‘এসব অলক্ষুণে কথা জিজ্ঞেস করছিস কেন?’
(চলবে)
