তেরো.
একবার ভাবলাম বলি এমনি, তারপর কী মনে করে বললাম, ‘তোমরা পাখির কবর কোথায় দিয়েছ? এই বাগানে?’
আঁখিদির কাছে আমার কবর সংক্রান্ত প্রশ্নটা বোধগম্য হলো। বিষাদে মুখ ভারী হয়ে গেল। হয়তো ছোটবোনের করমচা পাড়ার আবদারের কথা মনে পড়ে গেল। মনে পড়ে গেল, বাড়িতে নতুন ছেলে বাবু আসার আনন্দের অবহেলার অগোচরে ছোট্ট বোনটি পানিতে ডুবে হারিয়ে গেছে। মুখে কিছু না বলে দু’দিকে মাথা নাড়ল আঁখিদি। চোখ ছলছল করতে লাগল।
‘কোথায় কবর দিয়েছ?’
‘পাখির কথা তোর খুব মনে পড়ে বুঝি?’ আঁখিদি আমার একমাথা ঝাঁকড়া চুল এলোমেলো করে দিলো।
আমি উপর নিচ মাথা নেড়ে বললাম, ‘বলো না কোথায়?’
‘গোরস্তানে। আমাদের এই খ্রিস্টানপাড়ার শেষে গির্জার ওপাশে যে গোরস্তান আছে না, ওখানে।’
‘ওখানে তো অনেক কবর। তোমরা ওর কবর চিনতে পার?’
‘চিহ্ন করা আছে। কাঠের ক্রস দিয়ে তার উপরে ওর নাম লেখা আছে। ওর একটা ছবিও দেয়া আছে।’ তারপর আঁখিদি কী মনে করে বলল, ‘এখন সন্ধ্যা হয়ে আসছে। না হলে তোকে নিয়ে দেখিয়ে নিয়ে আসতাম। আগে প্রায়ই যেতাম। ইদানীং আমরাও কতদিন যাইনি!’ আঁখিদির গলা ধরে এলো।
আমি কাগজে মোড়ানো করমচাগুলো প্যান্টের পকেটে ঢুকিয়ে ও বাড়ি থেকে বেরিয়ে এলাম। আকাশের দিকে তাকালাম। এখনো সন্ধ্যা হতে বেশ বাকি আছে। খ্রিস্টানদের গোরস্তান আমি চিনি। গির্জার পাশে। খ্রিস্টানপাড়ায় এসেছি, এখান থেকে বেশি দূরে না। (চলবে)
তেরো.একবার ভাবলাম বলি এমনি, তারপর কী মনে করে বললাম, ‘তোমরা পাখির কবর কোথায় দিয়েছ? এই বাগানে?’আঁখিদির কাছে আমার কবর সংক্রান্ত প্রশ্নটা বোধগম্য হলো। বিষাদে মুখ...
