চৌদ্দ.
ওই তো গির্জার মাথার ক্রস এবং ক্রসবিদ্ধ কাঠের ফলকের যিশুকে দেখা যাচ্ছে। টেনে হেঁটে গেলে মাগরিবের আজানের মধ্যে বাড়িতে ফিরতে পারব।
আমি প্রথমে দ্রুত পায়ে তারপর আস্তে আস্তে দৌড়াতে শুরু করলাম। ছোট ছেলেমেয়েরা রাস্তাঘাটে দৌড়ায়, তাতে কেউ ভ্রƒক্ষেপ করে না। ওয়াপদার রাস্তা ধরে দৌড়াতে দৌড়াতে গির্জার চাতালের কাছে এসে পৌঁছালাম। মাথা উঁচু করে গির্জার দিকে তাকালাম। সন্ধ্যের আগে লালিমা গির্জার উপরের গোল রঙিন বাহারি কাচে লেগে অদ্ভুত রঙ ছড়াচ্ছে। কিন্তু আমি গির্জা দেখতে আসিনি। গির্জার ওপাশে বেশ কিছুটা ফাঁকা জায়গা। হয়তো গির্জার প্রাথর্না সঙ্গীতে একত্র হওয়া বা ওদের কোনো ধর্মীয় অনুষ্ঠানের জন্য অথবা লাশ সৎকারের আগে শেষকৃত্যানুষ্ঠানের জন্য সবুজ মাঠের মতো নির্জন জায়গাটা। ওটা পেরুতেই কেমন যেন ভয় ভয় করতে লাগল। নিঃসঙ্গতার ভয় বোধ হয় বড় ভয়।
নিচু পাঁচিল ঘেরা গোরস্তান। বেশ প্রাচীন। পাঁচিলের প্লাস্টার কবেই খসে পড়েছে। শুধু তাই নয়, নিজেদের প্রয়োজনে পাঁচিলের গা থেকে ইট খসিয়ে নিয়েছে কেউ কেউ। গোরস্তানের কোনো পাহারাদার নেই। কথায় বলে না, গোরস্তানের ভেতরে যারা আছে তারা কখনো বেরিয়ে আসতে পারবে না, আর গোরস্তানের বাইরে যারা তারা কেউ স্বেচ্ছায় ঢুকতে চায় না। তাই পাহারাওয়ালার দরকার নেই। পাঁচিল দেয়ার সময় একটা গেটের মতো কিছু বানালেও এখন তার অস্তিত্ব নেই। রাস্তার দিক থেকে ঢোকার সুবিধার্থে ইট খসিয়ে অস্থায়ী প্রবেশদ্বার বানিয়ে নেয়া হয়েছে।
(চলবে)
