পনেরো.
আমি আশপাশে তাকালাম। কেউ নেই। থাকলেই যেন ভালো হতো। তাহলে বুকের ভেতরের ঢোলের বাড়িটা এত শব্দে শোনা যেত না। একবার ভাবলাম সন্ধ্যা হয়ে আসছে ফিরে যাই, আবার ভাবলাম, একবার এসেই যখন পড়েছি, দেখেই যাই। জানি, পাখির এই কবর দেখতে আসা অযৌক্তিক। হয়তো আমার মনের ভেতরে কোনো সুপ্ত জায়গা থেকে বলছে, পাখি ওই কবরে নেই। কবরে থাকলে ও পানির মধ্যে আমাকে দেখা দিতে পারত না, পারত না ছাগলছানার মৃত্যুর খবর জানিয়ে যেতে। ও কবরে আছে কি নেই সেটিই দেখতে আমার আসা।
ভয়ে বুক ধুকপুক করছে, তাও পা টিপে টিপে গোরস্তানের কবরগুলোর পাশ দিয়ে এগুচ্ছি। বেশির ভাগ কবরের মাথার কাছে ক্রস কাঠ দণ্ডায়মান থাকলেও কবর ভেঙে গর্ত গেছে। সেই গর্তের দিকে তাকানোর মতো সাহস আমার নেই। কতগুলো কবর পরিচর্যার অভাবে এরকম পরিত্যক্ত হয়ে আছে। তাকে বুনো ঝোপ গাছে ক্রসকাঠ ও কবরটাকে ঢেকে ফেলেছে। আর সেদিকে তাকালেই মনে হচ্ছে ওই বুনো ঝোপের মধ্যেই কবরের অশরীরী বাসিন্দা ওঁৎ পেতে বসে আছে। ঘপ করে আমার ঘাড়ে হামলে পড়বে।
যে পাশ দিয়ে ঢুকেছি, সেখান দিয়েই মানুষ যাওয়ার একটা পায়ে চলার চিহ্নমতো দেখা যাচ্ছে। সে পথ দিয়েই জোর কদমে সামনের দিকে হেঁটে চলেছি। যেন আমি জানি, সামনের দিকে গেলেই পাখির কবরটা আমি দেখতে পাবো। অদৃশ্য কোনো শক্তি যেন আমাকে পাখির কবরের দিকে টেনে নিয়ে যাচ্ছে। সেই শক্তিই যেন আমাকে এখানে টেনে এনেছে। (চলবে)
