ষোল.
সন্ধ্যা হব হব প্রায়। তবে এখনো দিনের শেষ আলো কিছুটা চোখে দৃশ্যমান। আর সেই আলোয় অদূরে গোরস্তানের শেষমাথায় একটা নতুন কবর দেখতে পেলাম। বুঝতে পারলাম, ওটাই হয়তো পাখির কবর। কারণ এর মধ্যে খ্রিষ্টান কাউকে মরার কোনো সংবাদ তো কানে আসেনি।
পাখির কবরের কাছে যখন এসেছি তখন সন্ধ্যা নেমে গেছে। পলিথিনের মধ্যে মোড়ানো পাখির ছবিটা আমার চোখে অস্পষ্ট হয়ে আসছে। ক্রুসকাঠের উপর পাখির নাম ধাম কিছু পড়তে পারছি না। কবরের ঢিবির দিকে তাকালাম। ওর নিচে পাখি শুয়ে আছে। কাঠের বাক্স কফিনের মধ্যে। তাহলে আমার সামনে যে দেখা দেয় সে কে? আমি কী ভেবে এখানে এসেছিলাম? পাখিকে কবরের মধ্যে দেখব? কিন্তু দেখবো কিভাবে? তাহলে তো কবর খুঁড়ে কফিন বের করে দেখতে হবে? কবর খুঁড়ব কিভাবে?
দূর থেকে ক্ষীণ কণ্ঠে মসজিদের মাইকে মাগরিবের আজানের পবিত্র ধ্বনি ভেসে এলো। আজানের ধ্বনির কারণে কি না কে জানে আগের সেই তীব্র ভয়টা যেন কমে এলো। আর বুঝতে পারলাম, আমার এখনই এখান থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় হয়েছে। মাগরিবের আজান পড়লেই যেখানে থাকি বাড়িতে ফেরার কথা। এটাই অলিখিত নিয়ম।
(চলবে)
