বিশ.
আমি এরকম বিস্মিত হলাম যে বলার নয়। আমি আন্দাজে মিথ্যে হিসাবে লাল গাই খোঁজার কথা বলেছি। আর সত্যিই লাল গাই গোয়ালে আসেনি। এটা কি কাকতালীয়? নাকি আমাকে মিথ্যের হাত থেকে বাঁচাতে পাখিই গরুটাকে পথভ্রষ্ট করেছে?
খলিল সানা আমার হাত ছেড়ে দিয়ে জিজ্ঞেস করল, ‘সবুর কি তোদের বাড়ি মাইনে থাকে?’
‘হু।’
‘ভালো। যুবক ছেলে কাজের লোক! ’
আমি খলিল সানার কথার মাথা মুণ্ডু কিছুই বুঝতে পারলাম না। বোঝার চেষ্টাও করলাম না। বাড়ি এসে গরু হারানোর কথা ধরা খেতে হবে না, এই আনন্দে সব ভুলে গেলাম।
বাড়িতে এসে খলিল সানা আমাকে মায়ের হাতে বুঝিয়ে দিলেও যে উদ্দেশ্যে এসেছিল সে উদ্দেশ্য সফল হলো না। আপু মিনু খালাকে নিয়ে গরু খ্ুঁজতে বেরিয়েছে। বাড়িতে গরু খোঁজাখুঁজি চলছে দেখে খলিল সানাও আর আমার গোরস্থানে গরু খোঁজার কথা তেমন কিছুই উল্লেখ করল না। আপু বাড়িতে নেই দেখে বিরসবদনে বেরিয়ে গেল।
বাইরে থেকে এসেছি হাতমুখ ধুতে হ্যারিকেন হাতে নিয়ে পুকুর পাড়ে এলাম। পুকুরের ঘাটটা বড় বড় গাছের গুঁড়ি ফেলে ঘাটলার মতো করা হয়েছে। তাতে খুব সাবধানে পা দিয়ে নামতে হয়। অনেক সময় পিছলা হয়ে থাকে। আমি হ্যারিকেনটা এক পাশে দাঁড় করিয়ে রেখে উপরে জুতো খুলে খুব সাবধানে পা টিপে টিপে পানিতে এক পা কেবল ডুবিয়েছি তখনই হ্যারিকেনের হলদেটে আলোয় পানির মধ্যে এক মাথা লম্বা লম্বা চুলের পাখিকে দেখতে পেলাম।
(চলবে)
