পঁচিশ.
আপু বারান্দায় মাদুর বিছিয়ে বসে এক মনে পড়ে যাচ্ছে। সামনে মেট্রিক পরীক্ষা। আর আমি মর্নিং স্কুলের জন্য রেডি হচ্ছি।
স্কুল বাড়ি থেকে খুব কাছেই। তবে সুশান্তদার দর্জির দোকানের সামনে দিয়ে যেতে হয়। আমি দোকানের দিকে তাকাব না ভাবলাম। কিন্তু সুশান্তদাই আমাকে ডাক দিলো। ‘এই শোন, তোর দিদির একটা বডিস আছে আমার এখানে। তোকে প্যাকেট করে দেবো। না তোর দিদিকে আসতে বলবি।’
আমি বললাম, ‘আমার কাছেই দেন।’
‘না, থাক। যার জিনিস তার কাছে দেয়াই ভালো। পরে দোষ ঘাট হবে। তোর দিদিকে আসতে বলিস।’
পরদিন সকালে আব্বা জানাল, সন্তোষের ছেলে সুশান্তর দর্জিঘরে আগুন লেগেছিল। কাপড়চোপড়ের মধ্যে সিগারেটের আগুনই হবে হয়তো। ছেলেটা পুড়ে আধ মরা হয়ে গেছে। বাঁচে কিনা সন্দেহ। ওরা সবাই আমাকে দেখাল। আমি প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বড় হাসপাতালে নিতে বলেছি। এতক্ষণে ভ্যানট্যান ডেকে সবাই রওনা দিয়েছে বোধ হয়।’
আমি দীর্ঘশ^াস ফেললাম।
আব্বা আবিষ্কার করল, আমাদের হ্যারিকেনটা চুরি হয়ে গেছে। আব্বা বিরক্ত কণ্ঠে বলল, ‘মানুষের বিপদের মধ্যেও কে জানি এসে আমাদের হ্যারিকেনটা চুরি করে নিয়ে গেছে।’
মা বলল, ‘বাদ দাও। সামান্য হ্যারিকেন। ওদের কত বড় ক্ষতি হয়ে গেল!’
হাসপাতালে নেয়ার পরেও সুশান্তদাকে বাঁচানো গেল না। কে জানে, এই মৃত্যুর সাথে পাখির কী যোগ!
আমার মনের মধ্যে ভয় ঢুকে গেল। পাখির ভয়। আগে বিপদে পড়লে পাখিকে দেখতে চাইতাম। আর এখন পাখিই আমার জন্য সবচেয়ে বড় বিপদ। মনেপ্রাণে চাই, ওকে আর যেন দেখতে না পাই। (চলবে)