ছাব্বিশ.
স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পর মা জানাল, রান্নার মতো তরকারি নেই। সবুরকে সাথে নিয়ে বাগান খুঁড়ে মেটে আলু খুঁজে আনতে পারি কিনা। এসব কাজে আমার বেশ মজা লাগে। একটা শাবল নিয়ে বেরিয়ে পড়লাম। সবুর বাগানেই কাজ করছিল। তাকে বললাম কথাটা। সবুর এমনিতে কম কথা বলে। মা হয়তো আপুর ব্যাপারে কিছু শাসিয়ে রেখেছে। এখন আরও কম বলে। আমার হাত থেকে শাবল নিয়ে মরা শুকনো মেটে আলু গাছ খুঁজতে লাগল। শুকনো গাছ দেখে তার শিকড়ের সন্ধান করলেই মেটে আলু মিলবে। প্রথমে এক জায়গায় একটা গাছ পেলেও তার আলুর যা সাইজ তাতে হবে না। আরেকটা অন্তত এই সাইজের আলু লাগবে। খুঁজে পেতে বাঁশঝোড়ের ওখানে আরেকটা মরা গাছের সন্ধান মিলল। বাঁশঝাড়ে লতিয়ে উঠেছে। মরা গাছের শিকড় ধরে সবুর বেশ খানিকটা মাটি খুঁড়ল। আলু মিলল না। আরো গভীরে খুঁড়তে লাগল। তখনই ঠং করে একটা শব্দ এসে লাগল শাবলের গায়ে। শব্দটা শুনেই গুপ্তধন পাওয়া গেছে এরকম ভাব করে সবুর আরো খুঁড়তে লাগল। খুঁড়তে খুঁড়তে মেটে আলুর বদলে সবুজ রঙের একটা বোতল বেরিয়ে এলো।
‘আমি জানি, ওটা কিসের বোতল! জিনের বোতল! তাড়াতাড়ি পুতে দাও।’ আমি বললাম।
গোয়ার গোবিন্দ সবুর আমার কথা কানে নিলো না। গুপ্তধন না পাওয়ায় বিরক্ত হয়ে বলল, ‘ধুর! ধুর!’ তাচ্ছিল্যের সাথে সবুজ বোতলটা এক পাশে সরিয়ে রেখে আবার মাটি খুঁড়তে লাগল। এবার কাক্সিক্ষত মেটে আলু বেরিয়ে এলো। বেশ বড় গোছের।
সবুর মেটে আলুটুকু আমার হাতে ধরিয়ে দিয়ে বোতলটা নিজ তালুবন্দী করল। আমি বললাম, ‘বোতল নিয়ে কই যাও।’
সবুর আমার কথার উত্তর দিলো না। (চলবে)